দেবীর দশ হাতেই পদ্ম! বিশ্বশান্তির বার্তা শান্তিনিকেতনের হীরালিনী দুর্গোৎসবে
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকমল দালাল, বোলপুর: দশ হাতে অস্ত্রের বদলে পদ্মফুল। অসুরদলনী দুর্গার এমনই ব্যতিক্রমী রূপে বিশ্বশান্তির বার্তা দেয় শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলের হীরালিনী দুর্গোৎসব। এখানে পুজোর জৌলুসের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে শিল্প, সম্প্রীতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধন। ২৬তম বর্ষেও সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে এবার কাঠের তৈরি নতুন প্রতিমা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরছেন শিল্পী আশিস ঘোষ।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ২০০১ সালে শিল্পী বাঁধন দাসের হাত ধরে এই পুজোর সূচনা। বিশ্বজুড়ে হিংসা ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ২০০২ সাল থেকে প্রতিমার হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে স্থান পায় পদ্মফুল। সেই ভাবনাই আজও এই উৎসবের মূল পরিচয়। বাঁধন দাসের প্রয়াণের পর তাঁর ছাত্র আশিস ঘোষ সেই ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন।
শিল্পী আশিস ঘোষ বলেন, ‘আমার মাস্টারমশাই শিল্পী বাঁধন দাস এই উৎসবের সূচনা করেছিলেন। শিল্পের উৎসবে মাতব সবাই, এই সংকল্প নিয়েই উৎসবের সূচনা হয়েছিল। আজও তা অব্যাহত। আশেপাশে আদিবাসী গ্রামের মানুষজন উৎসবের দিনগুলিতে এখানে থেকে যান, সব কাজ মূলত তাঁরাই করেন। এবার ২৬ বছর বলে ভাবলাম একটা নতুন প্রতিমা বানিয়ে ফেলি। তাই কাঠ দিয়ে বানাতে শুরু করে দিলাম। আশা করি সবার ভালো লাগবে।’
এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ। দুর্গোৎসবের পাশাপাশি পালিত হয় তাঁদের ঐতিহ্যবাহী বেলবরণ উৎসব। বনেরপুকুর ডাঙা, সরপুকুর ডাঙা, বল্লভপুর ডাঙা ও ফুলডাঙা সহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা পুজোর আয়োজন থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবেতেই অংশ নেন। 
জাঁকজমকপূর্ণ মণ্ডপ, চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা কিংবা বিজ্ঞাপনের আড়ম্বর নেই এখানে। সোনাঝুরির প্রাকৃতিক পরিবেশে শিল্পনির্ভর প্রতিমা, লোকসংস্কৃতি ও মানুষের মিলনই এই উৎসবের আকর্ষণ। পুজোর দিনগুলিতে মূল খোয়াই হাট বন্ধ থাকলেও সাংস্কৃতিক মঞ্চের পাশে বসে ছোট্ট হাট। সব মিলিয়ে হীরালিনীদুর্গোৎসব হয়ে ওঠে সম্প্রীতি, শিল্প ও শান্তির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র।