মা দুর্গা ‘দ্বাদশভুজা’, পরিবারে ঠাঁই হয়নি কার্তিক ঠাকুরের! কামারহাটিতে বিজেপির শুভেচ্ছা ব্যানার ঘিরে বিতর্ক
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পালাবদলের জমানায় দেবী দুর্গার হাত নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। কামারহাটির বিজেপি নেতৃত্বের দেওয়া দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা বার্তার ব্যানারে মহামায়ার ১২টি হাত নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই ব্যানারে দশভূজার দুই কন্যা লক্ষ্মী-সরস্বতী এবং পুত্র গণেশ উপস্থিত থাকলেও, ঠাঁই হয়নি কার্তিকের। বরং ব্যানারে দেবী লক্ষ্মী মায়ের দু’পাশেই। ব্যানারে চিন্ময়ীর সঙ্গেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য বিজেপি নেতাদের  ছবি। যে ছবি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভুলবশত হওয়া ওই ব্যানার বদল করে নতুন টাঙানো হয়েছে। রাতারাতি ব্যানার বদলানো হলেও, মা দশভূজার পরিবারের এহেন ‘ব্যতিক্রমী ছবি’ সমাজমাধ্যমে ভাইরাল!  

Advertisement

বিজেপির কামারহাটি ১ মণ্ডলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড নেতৃত্ব দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা ব্যানার লাগিয়েছিল। ওই ওয়ার্ডের বাজার, জনবহুল এলাকায় ব্যানার লাগানো হয়েছিল সাড়ম্বরে। সাধারণ মানুষ ওই ব্যানার দেখে হতভম্ব হয়ে যান। কারণ, তাতে দেখা যায় দশভূজা হয়ে গিয়েছেন দ্বাদশভূজায়। পরিবারে ঠাঁই হয়নি কার্তিক ঠাকুরের। মা দুর্গার দু’পাশেই লক্ষ্মীঠাকুরের ছবি। সেই ব্যানারে হাঁসি মুখে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী সহ জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের ছবি রয়েছে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ একাধিক  বিজেপি নেতা ওই ব্যানারের ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দেন। এমন এক পোস্টে বিজেপি কর্মী লিখেছেন, ‘মা দুর্গাকে অপমানিত করলেন, ১ নম্বর মণ্ডলের নেতৃত্বরা। এই ঘটনার পিছনে দলের জেলা ও কামারহাটির গুটি কয়েক নেতার ইন্ধন রয়েছে। সবথেকে বড় দুর্ভাগ্য, অন্য ধর্মের কোনও লোক যুক্ত নয়। খোদ সনাতনী তথা বিজেপি নেতারা এই ঘটনা ঘটালেন। এটা আমাদের কাছে লজ্জার। অবিলম্বে দলের তরফে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ এই পোস্ট শেয়ার করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। কামারহাটি ১ মণ্ডল সভাপতি বাসব পাল বলেন, ওয়ার্ডের বিজেপি কর্মীদের অসচেতনতায় এই ভুল হয়েছে। যেখানে ছাপা হয়েছে তাঁরা এই ভুল করেছেন। ওই ব্যানার লাগানোর আগে তা তাঁরা ভালো করে খুঁটিয়ে দেখেননি। বিতর্ক তৈরি হতেই দ্রুত সেটি খুলে নতুন ব্যানার লাগানো হয়েছে।