৫দিন দুর্গারূপে পূজিত মা বর্গভীমা, পৌঁছল রাজবাড়ির পুজো সামগ্রী
  • ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তমলুকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা বর্গভীমাকে সপ্তমীকে দশমী পর্যন্ত দুর্গারূপে নির্ঘণ্ট মেনে পুজো করা হবে। সাধারণত মন্দিরের গেট সকাল ৭টায় খোলা হলেও পুজোর কয়েকটা দিন সকাল ৬টাতেই মায়ের মন্দিরের গেট খুলে যাচ্ছে। বছরের অন্যান্য সময় রাত ৮টায় মায়ের মন্দিরের গেট বন্ধ হলেও পুজোর সময় ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মায়ের পুজো চলবে। সেজন্য গেটও খোলা থাকছে। আসলে ৫১সতীপীঠের অন্যতম পীঠ তমলুকের মা বর্গভীমা। পুজোর চার দিনে দুর্গারূপেই মাকে আরাধনা করা হয়। প্রতিদিন মাকে নতুন শাড়িতে সাজানো হচ্ছে।  

Advertisement

ষষ্ঠীর দিন সকালে তাম্রলিপ্ত রাজবাড়ি থেকে বর্গভীমা মায়ের মন্দিরে রাজবাড়ির তরোয়াল, অধিবাস সামগ্রী এবং তিনটি পাঁঠা নিয়ে যাওয়া হয়। আগে ঘোড়ার গাড়িতে পুজোর সামগ্রী যেত। এখন আর ঘোড়ার গাড়ি নেই। মা বর্গভীমা হলেন তমলুকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। বলা হয়, তাম্রলিপ্ত জনপদ প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠিত। অন্যতম জাগ্রত ও প্রধান শক্তিপীঠ। মেদিনীপুরের অনেক বিপ্লবী মাতৃভূমিকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করার জন্য এখানে শপথ নিযতেন। এখানে দেবীর প্রসাদ নিরামিষ হয় না। ৩৬৫দিন দেবীর প্রসাদে শোল মাছ বাধ্যতামূলক। পুজোর সময়ও তা থাকছেই।

প্রাচীনকালে মহাষ্টমীর দিন বীরেরা অস্ত্রপুজো করতেন। তাই মহাষ্টমীর আরেক নাম বীরাষ্টমী। এইদিন অস্ত্রপুজোয় নিয়ম আছে। বর্গভীমা হল শক্তিপীঠ। এখানেও মহাষ্টমীতে অস্ত্রপুজো হয়। রাজ পরিবার থেকে আসা অস্ত্র পুজো করা হয়। রাজবাড়ি থেকে দেওয়া তিনটি পাঁঠা মহাসপ্তমী, সন্ধিপুজো ও মহানবমীতে বলি দেওয়া হয়।  তমলুক শহরের পুজো উদ্যোক্তারা বর্গভীমা দেবীর কাছে সপ্তমীতে পুজো দেওয়ার পর নিজেদের কমিটির পুজোয় শামিল হন। 

তমলুকবাসীর কাছে মা বর্গভীমা অভয়প্রদা। বন্যা, খরা, সাইক্লোন সহ যেকোনও বিপদে আপদে মায়ের কৃপাতেই সন্তানরা সুরক্ষিত থাকেন বলে তাঁরা মনে করেন। সারাবছর মায়ের মন্দিরে ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে। তবে, পুজোর সময় মায়ের মন্দিরে ভিড়ের বহর কয়েকগুণ বাড়ে। ভক্তদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিস, স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। 

বর্গভীমা মাতা মন্দির কমিটির সম্পাদক শিবাজী অধিকারী বলেন, দুর্গাপুজোর সময় মা বর্গভীমাকে দুর্গারূপে পুজো করা হয়। এখানে আলাদা করে কোনও মূর্তি গড়া হয় না। মহাস্নান থেকে পুজো, ভোগ সবই নির্ঘণ্ট মেনে করা হয়। সারাদিন ধরে অঞ্জলি দেওয়া হয়। ভক্তরা যেকোনও সময় এসে অঞ্জলি দিতে পারবেন।