


ব্রতীন দাস, ধূপগুড়ি: ধূপগুড়ি বিধানসভায় জিততে শহরের ভোটই ‘পাখির চোখ’ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বৃহস্পতিবার ফণীর মাঠের নির্বাচনি সভা থেকে তা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। ভিড়ে ঠাসা এদিনের জনসভা থেকে ধূপগুড়ির মানুষের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আপনারা শহর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে লিড দিন। তারপর বাকি দায়িত্ব আমার। উন্নয়ন কাকে বলে তা ভোটের পর ছ’মাসে দেখিয়ে দেব। এরপরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সংযোজন, ধূপগুড়ি পুরসভার ভোট ডিউ রয়েছে। শহর থেকে লিড দিয়ে বিধানসভায় আমাদের প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়কে জেতান। তারপর ছ’মাসে শহরে কী উন্নয়ন করি দেখুন। যদি উন্নয়ন না দেখতে পান, তাহলে ধূপগুড়ি পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেবেন না। দলীয় সূত্রে খবর, মঞ্চে স্থানীয় নেতৃত্বকে ডেকে অভিষেক এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটের ময়দানে পারফরম্যান্সই শেষ কথা। ধূপগুড়ি শহর থেকে বড় ব্যবধানে দলের প্রার্থীকে লিড দিতে হবে।
বিজেপির যুব মোর্চার রাজ্যের সহ সভাপতি সপ্তর্ষি সরকারের অবশ্য পাল্টা তোপ, ২০১৭ সালে ধূপগুড়ি পুরসভার নির্বাচন হয়েছে। এরপর থেকে এখনও পুরভোট না হওয়ায় শহরের মানুষ হতাশ। নাগরিক পরিষেবা না মেলায় মানুষ তৃণমূলের ওপর মারাত্মক ক্ষুব্ধ। বিধানসভায় বিজেপিকে ভোট দিয়ে ধূপগুড়ি শহরের বাসিন্দারা তাঁদের সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন।
একুশের ভোটে ধূপগুড়ি বিধানসভায় বিজেপি জয়ী হলেও ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে এখানে জয়লাভ করেন তৃণমূলের নির্মলচন্দ্র রায়। কিন্তু ধূপগুড়ি শহরে ৯৭৯ ভোটে পিছিয়ে থাকে জোড়াফুল শিবির। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধূপগুড়ি শহরে তৃণমূলের পিছিয়ে পড়ার ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩৭২ ভোট। সেকারণে এবারের বিধানসভায় ধূপগুড়িতে জিততে শহরের ভোটকে পাখির চোখ করেছে তৃণমূল। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা ধূপগুড়ি পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ সিং বলেন, আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানিয়ে দিয়েছেন, শহর থেকে লিড দিতে হবে। এটুকু বলতে পারি, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ধূপগুড়ি শহর থেকে আমরা অনেক ভোটে এগিয়ে থাকব।
ধূপগুড়ি বিধানসভা উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে এসে ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ফণীর মাঠে জনসভা করেছিলেন অভিষেক। এদিন সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ওই সভায় বলেছিলাম, আপনারা আমাদের প্রার্থীকে জেতান। ধূপগুড়ি মহকুমা নিয়ে এলাকার মানুষের দাবি পূরণ হবে। আমরা কথা রেখেছি। আবার কথা দিয়ে যাচ্ছি, ধূপগুড়িতে আমাদের প্রার্থীকে বিধানসভায় জেতান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হলে কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিক আর না দিক, ভোট মিটে যাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে ধূপগুড়ির সমস্ত মানুষের মাথার উপর পাকা ছাদ হবে। ধূপগুড়ির সব প্রবীণ মানুষ বার্ধক্য ভাতা পাবেন। ধূপগুড়িতে তিনটি দুয়ারে স্বাস্থ্য ক্যাম্প হবে।
এদিনের নির্বাচনি জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ধূপগুড়িতে উন্নয়নের কী কাজ করেছে, তার রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরেন অভিষেক।