সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: জেলার দুই প্রান্তে বইছে অজয়, দামোদর, তারপরও অগ্নিমূল্য বালি। সোনার দামে বালি বিক্রি বন্ধ করতে বিধায়কদের উপস্থিতিতে বালিঘাটের লিজ নেওয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করল প্রশাসন। জেলাশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের উপস্থিতিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, একশো সিএফটি বালি ১২০০ টাকাতেই বিক্রি করতে হবে ঘাট থেকে। শুধু নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি প্রশাসন, সর্বক্ষণ নজরদারির জন্য প্রতি বালিঘাটে সরকারি আধিকারিক নিয়োগ করছেন জেলাশাসক। পাশাপাশি বালিঘাটে বসানো হবে সিসি ক্যামেরা, বালির রেট চার্ট ঘাটে বড় করে ডিসপ্লে করতে হবে। শুধু ঘাটে নজরদারি নয়, মিডলম্যানরা বালির দাম যাতে বাড়াতে না পারে, সেই জন্য সাধারণ মানুষ বালি কত টাকায় পৌঁছাচ্ছে তা নিয়েও নজরদারি চালাবে পুলিশ ও প্রশাসন।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই, আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেলাশাসক এদিন বিধায়ক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। কোনো ভাবেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বালি বিক্রি করা যাবে না। বিধায়কদের পক্ষ থেকেই ব্যবসায়ীদের সেই বার্তা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম হলেই কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
জানা গিয়েছে, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ১৫টি বৈধ বালি ব্লক বা ঘাট রয়েছে। প্রতিটি বালিঘাটের লিজ হোল্ডারদের এদিন বৈঠকে ডাকা হয়। সেখানেই জেলাশাসক পোন্নমবলম এস জানতে চান, জেলায় কেন বালির দাম আকাশ ছোঁয়া। জবাবে বালি ব্যবসায়ীরা দোষ চাপান মিডলম্যানদের উপর। তাঁদের দাবি, ঘাটে তাঁরা কম দাম নিলেও মাঝে যাঁরা কারবার করছেন, তাঁরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। প্রশাসন কড়া অবস্থান নিয়ে বৈঠকেই জানায়, মিডিলম্যানের নাম বলুন, এখনই গ্রেপ্তার করা হবে। প্রশাসনের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় তাঁদের মনোভাব। তারপরই নির্দেশ দেওয়া হয়, বালিঘাটে ১২০০ টাকায় বালি বিক্রি করা হচ্ছে, সেকথা ডিসপ্লে করতে হবে। ঘাটের বালির দাম কত নেওয়া হচ্ছে, তা নজরদারির জন্য প্রতিঘাটে একজন সরকারি অফিসার থাকবে। স্বজনপোষণ এড়াতে তাঁদের রোটেশনে ডিউটি করানো হবে। তা ছাড়াও প্রতি বালিঘাটে সিসি ক্যামেরা লাগানো নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বালিঘাটে নজরদারি করেই দায়িত্ব সারা হচ্ছে না। আবাস যোজনার বাড়ি হোক বা গৃহস্থের বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বালি, তাঁদের নির্মীয়মান বাড়ির কাছে বালি কত টাকায় পড়ছে তাও দেখা হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনকে সাহায্য করবে পুলিশ। তাঁরা নজরদারি চালাবে। বিধায়কদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয় নিজেদের এলাকায় তাঁরাও যেন বিষয়টি নজর রাখেন।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, বালির চাহিদা তুঙ্গে, দাম বেশি, জোগানও কম। এই দু’টি সমস্যার সমাধান করতেই বৈঠক করা হয়। জেলায় ১৫টি বালি ঘাট রয়েছে, আরও ১২টি বালি ঘাট পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। যে সব ব্লকে বালি ঘাট নেই, সেখানে বালির স্টক পয়েন্ট করার অনুমতি দপ্তরের কাছে চাওয়া হচ্ছে। যাঁতে সেই সব এলাকাতেও বালি পরিবহণের খরচ কম হয়। বালি পরিবহণ করা ট্রাক্টরের রেজিস্ট্রেশন করানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।