


সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: দক্ষিণ -পূর্ব রেলের তরফে ১২৮৮৫ / ১২৮৮৬ (শালিমার - ভোজুডিহি) আরণ্যক এক্সপ্রেসের পরিষেবা উন্নততর হচ্ছে। এবার যাত্রীদের নিরাপত্তা ও উন্নত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ-পূর্ব রেল আরণ্যক এক্সপ্রেসকে প্রচলিত আইসিএফ রেকের বদলে এলএইচবি (লিঙ্ক হফম্যান বুশ) কোচে রূপান্তরিত করছে। ফলে পুরুলিয়ার শিল্পাঞ্চল সাঁওতালডিহি এলাকার মানুষের কলকাতা পৌঁছাতে সুবিধা হবে। ওই এলাকার মানুষের জন্য ট্রেনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীরা এবার ওই ট্রেনে ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে পাবেন বিশেষ সুবিধা। পাশাপাশি রেল নিরাপত্তা বাড়বে।
রেলের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শালিমার-ভোজুডিহি আরণ্যক এক্সপ্রেস উভয় দিক থেকে এলএইচবি রেক কার্যকর হবে। ফলে মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া জেলার যাত্রীরা বিশেষ সুবিধা পাবেন।
আদ্রা ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শালিমার - ভোজুডিহি আরণ্যক এক্সপ্রেস দক্ষিণ - পূর্ব রেলের অন্তর্গত একটি দ্রুতগতির ট্রেন। ট্রেনটি কলকাতা (শালিমার) থেকে ভোজুডিহি পর্যন্ত প্রতিদিন (রবিবার বাদে) চলাচল করে। ট্রেনটি প্রায় ৫ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে ৩১২ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। সাঁতরাগাছি, পাঁশকুড়া, খড়্গপুর, মেদিনীপুর, শালবনী, চন্দ্রকোনা রোড, গড়বেতা, বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া, আদ্রা, সাঁতালডিহি স্টেশনে স্টপেজ দেয়।
এক রেল আধিকারিকের কথায়, এলএইচবি কোচ আধুনিক স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি জার্মান প্রযুক্তিতে নির্মিত ভারতীয় রেলওয়ের উন্নত যাত্রীবাহী কোচ। এগুলি পুরানো আইসিএফ কোচের তুলনায় দ্রুতগতির (১৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত), অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং ফিচারের কারণে বেশি নিরাপদ, আরামদায়ক ও উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম যুক্ত। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে সহজেই একটি কোচের উপর আরেকটি উঠে পড়ে না ও এতে অগ্নি-প্রতিরোধী উপাদান ব্যবহার করা হয়। ফলে ট্রেনের যাত্রীরা নিরাপদ থাকেন।
পুরুলিয়া জেলার বাসিন্দারা বলেন, ট্রেনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেনটিতে সহজেই কলকাতা চলে যাওয়া যায়। পাড়ার বিজেপি বিধায়ক নদীয়ারচাঁদ বাউরি বলেন, ট্রেনটিকে এলএইচবি কোচে পরিণত করার জন্য কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। এই ট্রেন পাড়া বিধানসভা এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার থেকে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতে অনেকটা সুবিধা হবে।