


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: আপাতত বড় সভা নয়। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে ছোট ছোট বৈঠক করে ভোটযুদ্ধের ময়দানে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন শিলিগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা মেয়র গৌতম দেব। ভোটের দামামা বাজতেই তিনি এমন রণকৌশল নিয়েছেন। দলীয় সূত্রের খবর, দলের বিভিন্ন কমিটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত মিটিং করছেন। সেই সঙ্গে শিক্ষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মী, ক্রীড়া সংগঠন সহ বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠক করছেন মেয়র। একই সঙ্গে হোর্ডিং, দলীয় ঝান্ডা, নির্বাচনী কার্যালয় চালু করেছেন। এক-দু’দিনের মধ্যেই পদযাত্রা, জনসভা, রোড’শো শুরু করা হবে। এদিকে, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে জনসংযোগ করছেন বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষ।
মেয়র অবশ্য বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। তাঁর দেখানো পথেই সারা বছর মানুষের সঙ্গে রয়েছি। ইতিমধ্যে ২১টি ওয়ার্ডে মানুষের কাছে চলে কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৯২.৬৯ কিমি পথ অতিক্রম করেছি। নাগরিকদের বাড়িতে রাত্রিবাসও করেছি। তাই এখন ভোটের ময়দানে নেমে দলীয় কর্মীদের পাশাপপাশি নাগরিকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।
তিনদিন আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। ওই দিনই শিলিগুড়ির প্রার্থী গৌতম মাল্লাগুড়িতে হনুমানমন্দিরে পুজো দেন। এরপর তাঁকে বড় রোড’শো কিংবা সভা করতে দেখা যায়নি। তৃণমূল সূত্রের খবর, শহরের ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে শিলিগুড়ি কেন্দ্র। এখানে দলের চারটি টাউন কমিটি। ইতিমধ্যে মেয়র কমিটিগুলির সঙ্গে মিটিং করেন। পাশাপাশি ছাত্র, যুব, মহিলা, শ্রমিক সহ শিক্ষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মী, ক্রীড়া সংগঠনদের সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠক করছেন। এরবাইরে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাছে যাচ্ছেন।
মেয়র বলেন, এটা আমার জন্মভূমি। এই শহরকে সাজাতে চাই। তাই আমার স্বপ্ন নিয়ে সকলের কাছে যাচ্ছি। শুধু তাই নয়, অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা গৌতম ভোট ‘ক্যাচারদের’ নিয়ে ময়দানে ঘুঁটিও সাজাচ্ছেন। দলীয় সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে ৩৩টি ওয়ের্ডে কোথাও একজন, আবার কোথাও দু’জন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছেন।
৩০টি নির্বাচনী কার্যালয় খুলেছেন। তৃণমূলের এখানকার কো-অর্ডিনেটার কুন্তল রায় বলেন, ভোটযুদ্ধের ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। এক-দু’দিনের মধ্যেই প্রচারে ঝড় উঠবে। এদিকে, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষ ময়দানে নেমে পড়েছেন। তিনি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জনসংযোগ করছেন। পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, এখন তৃণমূল প্রার্থী ঘন ঘন বৈঠক করে কিছু করতে পারবে না। প্রচারে বিজেপি প্রার্থীই এগিয়ে রয়েছেন।