Bartaman Logo
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হোটেল, রিসর্ট থেকে বর্জ্য সংগ্রহ বন্ধ, বেলপাহাড়ীর জঙ্গল ভরছে জঞ্জালে

বেলপাহাড়ীর জঙ্গল ভরে উঠছে পর্যটকদের বর্জ্যে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের আকর্ষণে পর্যটকরা ছুটে এখানে আসেন। কিন্তু জঙ্গল, পাহাড়, ঝর্না ঘেরা নির্মল বেলপাহাড়ী হয়ে উঠেছে দূষণস্থল।

হোটেল, রিসর্ট থেকে বর্জ্য সংগ্রহ বন্ধ, বেলপাহাড়ীর জঙ্গল ভরছে জঞ্জালে
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: বেলপাহাড়ীর জঙ্গল ভরে উঠছে পর্যটকদের বর্জ্যে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের আকর্ষণে পর্যটকরা ছুটে এখানে আসেন। কিন্তু জঙ্গল, পাহাড়, ঝর্না ঘেরা নির্মল বেলপাহাড়ী হয়ে উঠেছে দূষণস্থল। হোটেল, গেস্ট হাউস, রিসর্ট ও হোম স্টে থেকে বর্জ্য সংগ্রহ প্রায় বন্ধ।  পর্যটন ব্যবসায়ীরা হোটেল বা হোম স্টের সীমানায় গর্ত খুঁড়ে বর্জ্য জমা করছেন। জঙ্গলের ভিতরেই লাগামহীন বর্জ্য ফেলা চলছে। জঙ্গলজুড়ে প্লাস্টিক, কাচের বোতল থেকে খাবারের উচ্ছিষ্ট, সব ছড়িয়ে পড়ছে জঙ্গলে।

Advertisement

বেলপাহাড়ী এলাকায় বর্জ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে সমস্যা সমাধানের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। সামনে পুজো। বিপুল সংখ্যক পর্যটক বেলপাহাড়ীতে আসতে চলেছে। অধিকাংশ হোটেল, রিসর্ট, হোম স্টে বুকিং হয়ে গিয়েছে। পুজোর সময় বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কোথায় ফেলা হবে, তা নিয়ে  স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। ব্লক প্রশাসনের তরফে পর্যটন ব্যবসায়ীদের নিয়ে মাস ছয় আগে বৈঠক করা হয়েছিল। বর্জ্য সংগ্রহ ও কথায় ফেলা হবে তা নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেসব কিছুই কার্যকর হয়নি। বেলপাহাড়ীর  পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, অবিলম্বে হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে ও লজ থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে জঙ্গলে বর্জ্য ফেলা ছাড়া বিকল্প পথ থাকবে না। বেলপাহাড়ীর কেঁদগোড়ার হোম স্টের মালিক পিনাকী বিশ্বাস বলেন, নিজের সীমানার মধ্যে গর্ত খুঁড়ে বর্জ্য জমা করছি। পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। চাইছি প্রশাসন নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু করুক। আমলশোলের এক হোমস্টে মালিক বলেন, আমার এখানে ৫৫ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এত মানুষের বর্জ্য নিজেদের জমিতেই গর্ত করে রাখতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে বর্জ্য পুড়িয়ে দিতে হচ্ছে। তাতেও দূষণ ছড়াচ্ছে। সপ্তাহে দু’ দিন বর্জ্য সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার যাবে। বাঁশপাহাড়ীর এক বাসিন্দা বলেন, জঙ্গলে এসে গর্ত করে বর্জ্য ফেলে চলে যাচ্ছে। প্লাস্টিক, কাচের বোতল থেকে খাবারের অংশ  চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। কমবেশি সব জায়গায় এখন এই চিত্র। জঙ্গলে গেলে দুর্গন্ধ ভেসে আসছে। বাঁশপাহাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মমতা বারুই বলেন, এই এলাকায় একাধিক হোম স্টে, রিসর্ট ও লজ রয়েছে। আগে প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এখন মাঝে মাঝে বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। ভেলাইডিহা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান শান্তি টুডু বলেন, বর্জ্য সংগ্রহের জন্য গাড়ি দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো খারাপ হয়ে পড়ে আছে। তাই বর্জ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। জেলার পর্যটন ব্যবসায়ী সুমিত দত্ত এদিন বলেন, ‘বেলপাহাড়ীর রিসর্ট ও হোমস্টের মালিকরা সমস্যায় পড়েছেন। হোটেল ও হোমস্টে থেকে বর্জ্য সংগ্রহের যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা একপ্রকার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।  আশা করছি প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ