নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বহু বছর ধরেই গঙ্গাসাগর মেলায় হোগলা পাতার ছাউনি বা ঘর তৈরির ছবি দেখা যায়। মেদিনীপুর থেকে নৌকায় করে সেসব নদীপথে নিয়ে আসা হত সাগরে। তবে এবারের মেলায় হোগলা পাতার ব্যবহার কমানোর উপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন। তাহলে বিকল্প কী? এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন আধিকারিকরা।
সব ঠিক থাকলে মেলা প্রাঙ্গণে হয়ত আর হোগলা পাতার ঘর দেখা যাবে না। পুজোর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জেলাশাসকের দপ্তরে গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। জেলাশাসক থেকে শুরু করে সুন্দরবন উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা ও সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডলের উপস্থিতিতে হোগলাপাতা নিয়ে দমকল ও অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকদের বিস্তারিত কথা হয়। মূলত মেলার সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের থাকার জায়গা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জন্য যে স্টল তৈরি করা হয়, তার ছাউনি হিসাবে হোগলাপাতা ব্যবহার করা হয়। আগে এই পাতা বিশেষ রাসায়নিকে ডোবানোর পর শুকনো করে তা দিয়ে ছাউনি করা হত। গত বছর এই হোগলাপাতার ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ফলে একটি অংশ পুড়ে যায়। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই আগামী বছর মেলায় হোগলার ঘর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে প্রশাসন। তাই কাপড়ের তাঁবু অথবা হ্যাঙ্গার জাতীয় কাঠামো তৈরি করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল বলেন, মূলত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এড়াতেই হোগলার বিকল্পের কথা ভাবা হয়েছে। তাছাড়া সৌন্দর্যায়নেরও একটা ব্যাপার আছে। দমকল ও অন্যান্য দপ্তর থেকে কী প্রস্তাব দেয়, তার ভিত্তিতে পরিকল্পনা করা হবে।
এদিকে, রাজ্যে বিজেপি সরকারের আমলে এটাই হতে চলেছে প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা। মনে করা হচ্ছে, মেলার সময় একাধিক ভিভিআইপি পা রাখবেন কপিলমুনির পুণ্যভূমিতে। সে কারণে হেলিপ্যাডের সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে সাগরদ্বীপে তিনটি হেলিপ্যাড রয়েছে। সেই সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হতে পারে।



