সংবাদদাতা, মানিকচক: মানিকচকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আসার আগেই ভূতনিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি। ফের জলমগ্ন আট থেকে দশটি গ্রাম। প্রবল স্রোতে সড়কপথে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ। মানুষজন ফের নৌকায় চলাফেরা করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, ফুলহারের ভাঙনে তলিয়ে গেল আলাদিয়ার রিং বাঁধও। পরিস্থিতি ভয়াবহ আঁচ করতে পেরেই আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন বাসিন্দারা। ভূতনিবাসীর আশঙ্কা, গঙ্গার মতো ফুলহারের জলস্তর বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।
গত একসপ্তাহ আগেই ত্রাণ শিবির ছেড়ে বাড়ি ফিরেছিলেন বানভাসিরা। শুরু করেছিলেন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের কাজ। কিন্তু গঙ্গা ফের রুদ্রমূর্তি ধারণ করছে। উত্তর চণ্ডীপুরের কেশরপুরের ভাঙা বাঁধ দিয়ে গঙ্গার জল হু হু করে ঢুকতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দুর্লভটোলা, নাজিরউদ্দিন টোলা, অশোকনগর, মানিকনগর সহ প্রায় ১০ টি গ্রামের রাস্তাঘাট জলমগ্ন। সেই জল ভেঙে যাতায়াত করছেন ভূতনির বাসিন্দারা। প্রতিনিয়ত জল বাড়তে থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাড়ির ভেতরে জল ঢুকে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
অন্যদিকে, জলের প্রবল স্রোতের কারণে মানিকচকের সঙ্গে ভূতনির সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা পুলিনটোলা কার্যত বন্ধ। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে মানিকচক ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন’টি নৌকা বরাদ্দ হয়েছে। এবছর পুজোর মুখে দ্বিতীয়বার বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে ভূতনির বাসিন্দাদের। ভূতনির তিথি মণ্ডল বলেন, এক সপ্তাহ আগেই বাড়ি ফিরেছি। ঘর গোছানো শুরু করেছি। তার মধ্যেই আবার বন্যা পরিস্থিতি। বর্তমানে ঘরে জল না উঠলেও রাস্তা জলমগ্ন। এভাবে জল বাড়লে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঘরেও ঢুকে যাবে।
উত্তর চণ্ডীপুরের আলাদিয়া গ্রামের রিং বাঁধও ভেঙে গিয়েছে। বাঁধের প্রায় কুড়ি মিটার অংশ প্রায় নিশ্চিহ্ন। এই পরিস্থিতিতে বাঁধের আশপাশের বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পালাতে শুরু করেছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ৮ অক্টোবর মানিকচকের মথুরাপুরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভূতনি সহ মালদহের বন্যার্তদের হাতে তুলে দেবেন সাহায্য। কিন্তু যেভাবে বন্যা পরিস্থিতি আবারও তৈরি হচ্ছে, তাতে দুর্গতরা সভায় কীভাবে আসবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে দুশ্চিন্তা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গতদের সমস্ত রকম সাহায্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই চালাতে হচ্ছে আমাদের। প্রবল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। তবে বন্যা পরিস্থিতি আবার তৈরি হলে সমস্ত সরকারি সুবিধা পুনরায় প্রদান করা হবে দুর্গতদের।