


সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর, বেলডাঙা, পাঁচথুপী সহ বিভিন্ন জায়গায় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু এসেছিলেন। কিন্তু অহিংস আন্দোলনের নায়ক মহাত্মা গান্ধীর পদধূলিতে মুর্শিদাবাদ জেলা একবারই ধন্য হয়েছিল। ১৯২৫সালের ৬আগস্ট দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের স্মৃতি তহবিলের টাকা সংগ্রহে মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর আহ্বানে মহাত্মা গান্ধী বহরমপুরে এসেছিলেন। সেদিন গান্ধীজির সঙ্গে এসেছিলেন বাজাজ ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা যমুনালাল বাজাজ। সেদিন নিজের বক্তব্যে গান্ধীজী বলেন, সম্প্রদায়গতভাবে এই জগতে আমার পার্সি বন্ধুদের দানের কোনও তুলনা নেই। কিন্তু ব্যক্তিবিশেষে মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর যে দান, তারও কোনও তুলনায় হয় না।
৬ আগস্ট সকালে কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে যান মহাত্মা গান্ধী। খুব অল্প সময়েই সেখানে দেশবন্ধুর স্মৃতি তহবিলের জন্য ১০৭৬টাকা তুলে দেওয়া হয়। ওইদিন বিকেলে মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর সভাপতিত্বে কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুল মাঠে একটি বিরাট সভা ডাকা হয়েছিল। সেই সভায় স্মৃতি তহবিলে ১০হাজার টাকা সাহায্যের অঙ্গীকার করেন মহারাজা। সভায় নিজের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মহারাজার এই অঙ্গীকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন মহাত্মা। দুপুরে বহরমপুরে বৈকুণ্ঠনাথ সেনের বাড়িতে গান্ধীজি মধ্যাহ্নভোজন সারেন। সেই বাড়িটি অবশ্য এখন আর নেই। বাড়িটি সংরক্ষণ না হওয়ায় অনেকেরই আক্ষেপ রয়েছে। ওইদিন সন্ধ্যায় কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলের সেমিনার হলে মহিলাদের নিয়ে সভা করেন গান্ধীজি। সেই সভায় মহিলারা দেশবন্ধুর স্মৃতি তহবিলে প্রচুর স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। ব্রজভূষ্ণ গুপ্তের বাড়িতে রাত্রিবাস করে পরদিন বহরমপুর ছাড়েন গান্ধীজি।
মুর্শিদাবাদ জেলা ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের সম্পাদক অরিন্দম রায় বলেন, মহাত্মা গান্ধীর আগমন মুর্শিদাবাদের ইতিহাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আগমন মুর্শিদাবাদ জেলায় জাতীয়তাবাদী ভাবনাকে আরও একধাপ এগিয়ে দিয়েছিল।