নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পঠনপাঠনের মানোন্নয়নে রাজ্যের বি এড এবং ডি ফার্ম কলেজগুলির উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে সরকার। পরিদর্শনের পরও ফের পরিদর্শন করছে সরকারের প্রতিনিধিদল। তবে এই পরিস্থিতিতে, পুজোর আগে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতে পারে অন্তত ২০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর। ছাত্র ভরতির অনুমতি না পাওয়া কলেজগুলি ইতিমধ্যেই শিক্ষক ও কর্মীদের বেতন বন্ধ করেছে বলে খবর।
পরিকাঠামো এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে খামতির জন্য বেসরকারি বিএড কলেজগুলিকে শো-কজ করেছিল নিয়ামক বিশ্ববিদ্যালয় বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি। সেই শো-কজের উত্তর পাওয়ার পর সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৭৫টি কলেজকে পড়ুয়াদের ভরতি করার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। তবে, যাদের উত্তর সন্তোষজনক নয়, সেই ৫৩২টি কলেজ ফের পরিদর্শন করেছেন উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধিরা। গত বুধবারই তা শেষ হয়েছে। তা সত্ত্বেও কারা ছাত্র ভরতির অনুমতি পাচ্ছে, আর কারা পাচ্ছে না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বীরভূমের একটি বেসরকারি কলেজের কর্ণধার মহম্মদ রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পড়ুয়া ভরতি না হলে এতজন শিক্ষক, অধ্যক্ষ, আধিকারিক, কর্মীদের বেতন দিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার পুজোর মুখে তাঁদের বেতন আটকে রাখাও অমানবিক। তাই দোটানায় পড়েছেন অনেকে। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে বেতন আটকে দিয়েছেন।’
একই অবস্থা রাজ্যের ডি ফার্ম কলেজগুলিতেও। সূত্রের খবর, প্রায় ২৫০টি এমন কলেজ রয়েছে। এগুলির নিয়ামক সংস্থা রাজ্যের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সংসদ। এই কলেজগুলিতে পরিদর্শন চালিয়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি মেলায় সেগুলিকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে, সেখানেও আটকে রয়েছে ছাত্র ভরতি। এই পরিস্থিতিতে সংসদের অধীন থেকে বেরিয়ে অন্য কাউন্সিলের অধীনে চলে যাচ্ছে কলেজগুলি। সেখানে সুবিধা হল, কড়াকড়ি কম। পরীক্ষায় হোম সেন্টার ফেলা হয়। বিভিন্ন কলেজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, এর ফলে রাজ্য থেকে সিকিম বা অন্যান্য রাজ্যে ডি ফার্ম পড়তে চলে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের ছাত্ররা। আগে যে ছাত্ররা অসম, ত্রিপুরা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড থেকে এ রাজ্যে বিএড পড়তে আসতেন, তাঁরা মূলত হিমাচল প্রদেশ বা অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে ছুটছেন। রাজ্যে যে ১৭৫টি বিএড কলেজে ভরতি চলছে, সেগুলিতেও খুব একটা আশাব্যাঞ্জক ছবি দেখা যাচ্ছে না।



