


স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ‘হেলমেট মাস্ট’—সাফ জানিয়ে দিয়েছে রাজ্যের নবগঠিত সরকার। তারপর থেকে ধরপাকড় শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। গত এক সপ্তাহে কলকাতাজুড়ে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, হেলমেট সুরক্ষায় ‘ফুল মার্কস’ পেয়েছে শহরের তিনটি এলাকা। বেহালা, ভবানীপুর ও তিলজলা। এই তিন ট্রাফিক গার্ড এলাকায় হেলমেটবিহীন বাইক চালকদের দাপট খুব কম। লালবাজারের রিপোর্টে উঠে এসেছে এই তথ্য।
গত ১০ মে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের সঙ্গে নবান্ন সভাঘরে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠক থেকে হেলমেটহীন বাইক চালকদের ব্যাপারে পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া হওয়ার বার্তা দেন তিনি। তৃণমূল সরকারের আমলে শহরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হেলমেট নিয়ে পুলিশ ঢিলেঢালা মনোভাব দেখাত বলে অভিযোগ শোনা যেত। শুভেন্দু স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেন, তাঁর সরকারের আমলে এই ধরনের শিথিলতা কোনোভাবে রেয়াত করা হবে না। পরের দিন থেকেই মাঠে নামেন উর্দিধারীরা। প্রথম তিন দিনে শহরে হেলমেটহীন প্রায় তিন হাজার বাইকচালককে পাকড়াও করে জরিমানা আদায় করে পুলিশ। পার্শ্ববর্তী বিধাননগর ও হাওড়া কমিশনারেট এলাকাতেও চলে ব্যাপক ধরপাকড়।
প্রথম তিন দিনের এই তৎপরতার ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ একটি রিপোর্ট তৈরি করে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, হেলমেট না পরার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ধর্মতলা, বিবাদী বাগ ও বড়বাজারের টি বোর্ড সংলগ্ন চত্বরে। গোটা এলাকাটি লালবাজারের হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ডের আওতায়। অন্যদিকে, হেলমেট পরার ক্ষেত্রে শহরের সর্বাধিক সচেতন এলাকা হল বেহালা। যে এলাকা আবার পথ দুর্ঘটনার জন্য কলকাতা পুলিশকে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রাখে। বেহালার জেমস লং সরণি ট্রাফিক গার্ড ও ডায়মন্ডহারবার রোড ট্রাফিক গার্ড এলাকায় বাইক চালকদের মধ্যে সচেতনতা যথেষ্ট। লালবাজারের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট বলছে, প্রথম তিনদিনে জেমস লং সরণি ট্রাফিক গার্ড এলাকায় হেলমেট না পরার অভিযোগে ২৯ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। সেই জায়গায় হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ড এলাকায় দ্বিতীয় দিনের শেষেই ‘ডবল সেঞ্চুরি’ পার করে গিয়েছে মামলার সংখ্যা। ডায়মন্ডহারবার রোড ট্রাফিক গার্ড এলাকাতেও হেলমেট সুরক্ষা নেওয়ার ঝোঁক যথেষ্ট। চতুর্থ স্থানে রয়েছে এই দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। প্রথন তিনদিনে হেলমেট বিহীন ৫৫জন বাইক চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হেলমেট সচেতনতার নিরিখে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাইপাস ঘেঁষা তিলজলা ও ভবানীপুর ট্রাফিক গার্ড এলাকা। তিলজলা, সায়েন্স সিটি, চায়না টাউন, মাঠপুকুর, ট্যাংরা অঞ্চল তিলজলা ট্রাফিক গার্ডের আওতাধীন। এখানে তিনদিনে মাত্র ৩১জন হেলমেটবিহীন চালককে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই পরিসংখ্যান তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, পুলিশি তৎপরতার আগে এই এলাকায় হেলমেটহীন রাইডারদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। গত দু’মাস ধরে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রস্থল ভবানীপুরেও বাইক চালকরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। ভবানীপুর ট্রাফিক গার্ডের মধ্যে রয়েছে আলিপুর রোড, ডি এল খান রোড, হাজরা, এক্সাইড চত্বর। তিন দিনে এখানে হেলমেটহীন ২৯ জনকে জরিমানা করেছে পুলিশ। ট্রাফিক পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘লাগাতার ধরপাকড়ের ফলে হেলমেটবিহীন চালকদের দৌরাত্ম্যে অনেকটাই লাগাম পড়েছে। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে বেহালা, তিলজলা ও ভবানীপুর। এই চিত্র সর্বত্র আনতে সচেষ্ট লালবাজার।’
ভবানীপুরে হেলমেট পরে বাইক-সফর। -নিজস্ব চিত্র