


নয়াদিল্লি ১৭মে: জ্বালানির বাজারে ফের বাড়ল অস্থিরতা। পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ফের বাড়ানো হল সিএনজির দাম। রবিবার সকাল থেকেই দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকায় কার্যকর হয়েছে নতুন মূল্য। রাজধানীতে এখন প্রতি কেজি সিএনজির দাম দাঁড়িয়েছে ৮০.০৯ টাকা।
শুধু দিল্লিই নয়, একাধিক পার্শ্ববর্তী শহরেও বেড়েছে সিএনজির দাম। নয়ডা ও গাজিয়াবাদে প্রতি কেজির নতুন দাম ৮৮.৭০ টাকা। গুরুগ্রামে ৮৫.১২ টাকা প্রতি কেজি। কানপুরে দাম পৌঁছেছে ৯১.৪২ টাকায়। আজমীরে নতুন মূল্য ৮৯.৪৪ টাকা এবং মীরাটে প্রতি কেজি সিএনজির দাম বেড়ে হয়েছে ৮৮.৫৮ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষের উপর চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সিএনজি চালিত অটো, ট্যাক্সি ও গণপরিবহণের ভাড়া বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিবহণ খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও।
শুক্রবারের আগে দিল্লিতে প্রতি কেজি সিএনজির দাম ছিল ৭৭.০৯ টাকা। পরে এক ধাক্কায় তা বাড়িয়ে করা হয় ৭৯.০৯ টাকা। আবার আজ তা গিয়া দাঁড়াল ৮০.০৯ টাকায়। একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির ঘাটতি, এই দুইয়ের প্রভাব পড়ছে দেশের সাধারণ মানুষের উপর। সম্প্রতি দেশজুড়ে পেট্রল ও ডিজেলের দামও গড়ে প্রায় ৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। সেইসঙ্গে সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল সাধারণ মানুষের মধ্যে।
গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যে দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহার কমানোর ও পাশাপাশি সম্ভব হলে বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁর মতে, এতে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা কমবে। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পর বিভিন্ন রাজ্যের একাধিক নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিক জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিতে শুরু করেছেন। অনেকেই তাঁদের সরকারি গাড়ির কনভয় ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমানো যায়। এদিকে রাজধানী দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সরকারি দফতরগুলিতে সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর ঘোষণা করেছেন। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে যানজট কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।