Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তহবিল খরচে পিছিয়ে তৃণমূলের চেয়ারম্যান থেকে পদ্মের সম্পাদক, মাত্র ৮৮ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন বিজেপির অগ্নিমিত্রা

পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই কর্মসূচি নিয়ে নিজের বিধানসভা এলাকায় চক্কর কাটছেন অগ্নিমিত্রা পল।

তহবিল খরচে পিছিয়ে তৃণমূলের চেয়ারম্যান থেকে পদ্মের সম্পাদক, মাত্র ৮৮ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন বিজেপির অগ্নিমিত্রা
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই কর্মসূচি নিয়ে নিজের বিধানসভা এলাকায় চক্কর কাটছেন অগ্নিমিত্রা পল। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তিনি। কর্মসূচিতে গিয়ে একাধিক জায়গায় উন্নয়ন নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। চোখে চোখ রেখে মানুষ জানতে চাইছেন—এই চার-সাড়ে চার বছরে এলাকা উন্নয়নে আপনি কী কাজ করেছেন? একই প্রশ্ন শুনতে হচ্ছে তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান তথা জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিংকেও।  

Advertisement

একুশের বিধানসভা ভোট ছিল মে মাসে। আসানসোল দক্ষিণ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন নামকরা ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা। অর্থাৎ, বিধায়ক হিসেবে কাটিয়ে দিয়েছেন ৪ বছর দু’মাস। হাতে বাকি আর কয়েকটা মাস। বছর ঘুরলেই দামামা বেজে যাবে ছাব্বিশের বিধানসভার। তার ঠিক আগে অগ্নিমিত্রার বিধায়ক তহবিলের খরচের হিসেব দেখলে চোখ কপালে উঠে যাওয়ার জোগাড়! প্রশাসন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর অনুমোদিত স্কিমের সংখ্যা মাত্র ১১টি। অনুমোদিত অর্থ ৮৮ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা। অথচ, প্রতি অর্থবর্ষে দুই কিস্তিতে ৬০ লক্ষ টাকা করে খরচ করার সুযোগ রয়েছে বিধায়কের। তার মানে চার বছরে তিনি খরচ করতে পারতেন প্রায় দু’কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর মতো দাপুটে বিধায়ক কেন নিজের এলাকার ভোটারদের কথা ভেবে তহবিলের টাকায় উন্নয়নের কাজ করাতে পারলেন না? 
এনিয়ে বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেয়েছেন আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার আসানসোল পুরসভার বরো চেয়ারম্যান দেবাশিস সরকার। তিনি এদিন বলেন, ‘আমি আরটিআই করে জানতে চেয়েছিলাম, আসানসোলের বিধায়ক তহবিলের কত টাকা খরচ করেছেন? উত্তর এসেছিল প্রথম দুটি অর্থবর্ষে তিনি বিধায়ক তহবিলের কোনও টাকাই খরচ করেননি।’ অগ্নিমিত্রার অবশ্য সাফাই, ‘ট্রেড এজেন্সিকে দিয়ে আমাদের কাজগুলি করাতে হয়। আমাদের প্রস্তাবিত কাজগুলির অনুমোদন দিতে বিলম্ব করা হয়। অনুমোদনের পরও কাজ করতে দেরি করা হয়। শেষে ইউসি পেতে টালবাহানা করা হয়। সবমিলিয়ে অতিরক্ত সময় লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে, আগামী দশদিনের মধ্যে আমি বহু উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জমা করব।’ 
তৃণমূল অন্য দলের বিধায়কের কাজ নিয়ে সমালোচনা করলেও নিজেদের দলের বিধায়কের পারফরম্যান্স খুব একটা সুখকর নয়। তিনি হলেন হরেরাম সিং। গত চার বছরের মধ্যে ১৬টি স্কিম অনুমোদন করাতে পেরেছেন। অনুমোদিত কাজের অর্থরাশি মাত্র এক কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। তিনি বলেন, ‘টেন্ডারে কিছু সমস্যা থাকার কারণে এই পিছিয়ে পড়া। আমার কার্যকাল শেষ করার আগেই সব টাকা খরচ করব।’ তহবিলের টাকা খরচে বেশ পিছিয়ে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুইও। তিনি আবার বিজেপির রাজ্য সম্পাদক। তাঁর মাত্র সাতটি স্কিম অনুমোদিত হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থরাশি ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। তিনি অবশ্য আগেই কাজের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না বলে পুরসভা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তবে, বিরোধী বিধায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি কাজ করাতে পেরেছেন কুলটির বিধায়ক অজয় পোদ্দার। তাঁর ২০টি স্কিম অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদিত অর্থরাশি এক কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।
বিধায়ক তহবিলের টাকা খরচে এগিয়ে রয়েছেন রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩৫টি স্কিমে ৩ কোটি ৪ লক্ষ টাকার কাজ অনুমোদন পেয়েছে। পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের ৪৬টি স্কিম অনুমোদন হয়েছে অনুমোদিত অর্থরাশি ২ কোটি ৩০ লক্ষ। পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ৪২টি স্কিম অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদিত অর্থরাশি ২ কোটি ৭ লক্ষ। বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ের ৭৯টি স্কিম অনুমোদন পেয়েছে। মন্ত্রী মলয় ঘটকের ৩২ টি স্কিম অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদিত অর্থরাশি ১ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ