নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: থিমের হাওয়ার পালে এবারের পুজো মরশুমে বিশেষ দোলা দিতে শুরু করেছে সনাতনী আর বন্দেমাতরম। সনাতনী, সাবেককে আশ্রয় করে কেউ বলছেন, আমাদের থিম নেই। আবার কারও দাবি, সনাতন, সাবেক ঘরানাই আমাদের থিম। কোথাও কোথাও আবার সাবেক ও সনাতনীর আশ্রয় হয়ে উঠেছে, বন্দেমাতরম। সেটাই থিম। হুগলির বৈদ্যবাটি থেকে শ্রীরামপুর, একাধিক পুজো কমিটি’র ক্ষেত্রে এমন ভাবনার প্রকাশ দেখা যাবে। তবে হ্যাঁ, দর্শক টানার আগ্রহকে বর্জন করছেন না কোনো পুজো উদ্যোক্তাই। ফলে থিম আছে এবং নেই এর গোলোকধাঁধার বাইরে আছে দর্শনীয় পুজো, জৌলুসের বিপুল সমাবেশ।
শ্রীরামপুরের লাইব্রেরি লেন সর্বজনীনের পুজোর এবারের থিম, সাবেকিয়ানা। সেখানে সুরভিত মণ্ডপসজ্জা আছে, আলোকসজ্জায় মাত করে দেওয়ার প্রয়াস আছে। কিন্তু প্রতিমায় আছে সাবেকিয়ানা। অর্থাৎ আধুনিক গড়নের প্রতিমাকে খানিক একচালার মতো গড়নে পেশ করা হয়েছে। থিম আছে আবার নেইও। কিন্তু দর্শনীয় পুজোর আয়োজনে খামতি নেই। পুজো উদ্যোক্তা দীপেন সাহা বলেন, বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লুকিয়ে আছে সাবেকিয়ানাতেই। সেটাই আমরা তুলে ধরেছি।
হুগলির বৈদ্যবাটি চৌমাথার পুজোতেও থিম আছে আবার নেই। ৭৮ বছরের পুজোমণ্ডপকে মন্দিরের আদল দেওয়া হয়েছে। সেখানে ‘ভগবত গীতা’র প্রেক্ষাপটে দেবীকে হাজির করা হবে। পুজো উদ্যোক্তা রাজকুমার দত্ত বলেন, আধুনিক ধাঁচার প্রতিমা আর সাবেক ঘরানার মেলবন্ধন করা হয়েছে। মনোহরণ আলোকসজ্জা থাকবে। শেওড়াফুলি বয়েজ অ্যাথলেটিক ক্লাব, ছাতুগঞ্জের মণ্ডপসজ্জাতেও থাকছে মন্দিরের আদল। বিরাট আয়তন মন্দিরের মধ্যে দেবী সাবেক ঘরানায় আর্বিভূতা হবেন। মণ্ডপসজ্জায় রাধাকৃষ্ণ, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সহ ভক্ত আর ভক্তির মিশেলে বহুসংখ্যক মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তা সমীরণ দত্ত বলেন, মানানসই আলোর সাজ দর্শকদের মুগ্ধ করবেই।
বৈদ্যবাটির শিববাগান সর্বজনীনের এবার রজতজয়ন্তী বর্ষ। তাদের মণ্ডপে বৌদ্ধগুম্ফার আদল দেখা যাবে। মূলত, গোল্ডেন প্যাগোডাকে সামনে রেখে একটি দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপ গড়া হয়েছে। কিছুটা কল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। আড়েবহরে বড় মণ্ডপ ও তার কাল্পনিক সজ্জা পুজো মরশুমে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে। দেবী এখানে মৃন্ময়ী এবং সাবেক একচালার প্রথাসিদ্ধ ঘরানায় হাজির থাকবেন। পুজো উদ্যোক্তা প্রতীপ ভট্টাচার্য বলেন, আলোকসজ্জাও দর্শকদের নজর কাড়বেই।
বৈদ্যবাটিরই মালির বাগান সর্বজনীনের এবাররের আশ্রয় সাবেক রাজবাড়ির পুজো। সেই আদলেই রাজা-জমিদারদের মোহন-মহার্ঘ্য ঠাকুরদালানের আদল ইতিমধ্যেই মাথা তুলেছে। পুরনো দিনের আদল আনতে তাতে বিশেষ আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। বৈভবের বিপুল আয়োজনের প্রয়োজন নানাভাবে মিটিয়ে মণ্ডপকে আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তা প্রদীপ ঠাকুর বলেন, দেবী একচালাতে সাবেক ঘরানার মৃন্ময়ী রূপে থাকবেন। ডাকের সাজে তাঁকে সাজিয়ে তোলা হবে। রাজবাড়ির পুজোর আবহ তৈরি করতে যাবতীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্যোগ নিয়েছেন সকলেই। শ্রীরামপুর থেকে বৈদ্যবাটি, উদ্যোগের অভাব নেই। তাতেই শহরের বিবর্ণ অংশও হয়ে উঠেছে অচেনা। আলোর বন্যায় ভেসে রাতের শহর ইতিমধ্যেই কুহেলিকা তৈরি করছে। শারদোৎসব এবার সত্যিই দ্বারে এসেছে।



