নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিয়ের আমন্ত্রণ পত্রের আড়ালে এপিকে ফাইল তৈরি করে তা বিভিন্নজনকে পাঠিয়েছিল অভিযুক্ত। এক পলকে দেখে মনে হবে এটি ই-কার্ড। আসলে এই ফাইল ক্লিক করলেই ফোনের যাবতীয় তথ্য চলে যাচ্ছিল অভিযুক্তের কাছে। মেটিয়াবুরুজে বাড়িতে বসে রীতিমতো টিম তৈরি করে প্রতারণা এই কারবার ফেঁদে বসেছিল দানিশ আলম আনসারি। এভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে টাকা পাওয়া যেত, তা হাওলার মাধ্যমে তার কাছে আসত। এই টাকা দিয়ে বিলাসবহুল একাধিক গাড়ি কিনেছিল অভিযুক্ত। বৃহস্পতিবার রাতে দানিশকে মেটিয়াবুরুজ থেকে গ্রেপ্তার করে গুজরাত পুলিশ। তার বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
ই-কার্ডে বিয়ের নিমন্ত্রণ এসেছে ভেবে তাতে ক্লিক করে গুজরাতের রাজকোটের একাধিক ব্যক্তি টাকা খুইয়েছেন। রাজকোট সাইবার ক্রাইম পুলিশ থানায় গত সেপ্টেম্বর মাসে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ই-কার্ড ক্লিক করায় তিনি ছ’লক্ষেরও বেশি টাকা খুইয়েছেন। লিংকে ক্লিক করা মাত্রই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে। তদন্তে নামার পর আরও অভিযোগ আসতে থাকে। দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সব মিলিয়ে ৫০০ জনেরও বেশি প্রতারিত হয়েছেন। যে অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা জমা পড়েছে, তার সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু হয়। দেখা যায়, এই মিউল অ্যাকাউন্টগুলি খোলা হয়েছে বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, গুজরাত সহ বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দাদের নামে। অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গুজরাত পুলিশ দু’জনকে চিহ্নিত করে। তাদের বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জেরা করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে গুজরাত পুলিশের কাছে। জানা যায়, এই অপারেশন চলছে কলকাতার মেটিয়াবুরুজে বসে। সেখানকার এক তরুণ এই এপিকে ফাইলগুলি তৈরি করছে। ওই তরুণই বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দাদের ডিজিটাল নিমন্ত্রণ পত্রের আড়ালে এপিকে ফাইলটি পাঠায়। সেই সূত্র ধরেই গুজরাত পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় আসে। মেটিয়াবুরুজ থানার সহযোগিতায় দানিশ নামের ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃতকে জেরা করে গুজরাত পুলিশ জেনেছে, ছোটো থেকেই বিলাসবহুল জীবনের স্বপ্ন দেখত সে। পড়াশোনা বেশিদূর এগয়নি। ইউটিউব ঘেঁটে সে এপিকে ফাইল তৈরি শেখে। তারপর ডার্ক ওয়েবে গিয়ে গুজরাত, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু সহ বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দাদের মোবাইল নম্বর জোগাড় করে। তাঁদের নম্বরেই এই ই-কার্ড পাঠাত সে। পাশাপাশি দানিশ ইনস্টাগ্রাম মারফত বিভিন্ন রাজ্যের তরুণদের সঙ্গে পরিচয় করে টিম তৈরি করত। প্রত্যেকের আলাদা দায়িত্ব ছিল। তারা সকলেই মাস মাইনে পেত। একটি টিম মিউল অ্যাকাউন্ট তৈরি করত, অন্যরা অ্যাকাউন্টে থেকে টাকা তুলত। টিমের অন্য সদস্যরা সেই টাকা দিয়ে নামী দোকান থেকে সোনার গয়না কিনত। পরে অন্য টিম আবার সেই গয়না ছোটোখাটো জুয়েলারি দোকানে বিক্রি করে নগদ টাকা আনত। সেই টাকা হাওলা মারফত আসত মেটিয়াবুরুজে চক্রের কিংপিনের কাছে। এই টাকায় চারটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছে দানিশ। এগুলি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।



