বিক্ষোভ-হিংসার আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স, বিভিন্ন এলাকায় জারি কার্ফু
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্যারিস: মূল্যবৃদ্ধি, স্কুল-শিক্ষার বেহাল পরিকাঠামো সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স। প্যারিস সহ একাধিক শহরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক শহরে আংশিক কার্ফু জারি করেছে প্রশাসন। জমায়েতেও নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। হিংসা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রবল চাপের মুখে পড়েছে ম্যাক্রঁ সরকার। 

Advertisement

প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ইতিমধ্যে পথে নেমেছেন ৮ লক্ষের বেশি মানুষ। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গত সপ্তাহের শেষে প্যারিস, লিয়ঁ, মার্সেই সহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। ঘটনায় কমপক্ষে ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছে প্যারিস ও মার্সেইয়ের একাধিক বিলাসবহুল বুটিক। হিংসার আঁচ থেকে রেহাই পায়নি সরকারি ভবনও। লিমোজ শহরে উনিশ শতকে তৈরি ঐতিহাসিক সিটি হলে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। এতে ধসে পড়ে ভবনটির ছাদ। এহেন পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের সতর্ক থাকতে বলেছে প্যারিসের ভারতীয় দূতাবাস।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকাভিত্তিক কার্ফু জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। সূত্রের খবর, প্যারিস সহ বিভিন্ন শহরে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্ফু জারি করা হয়েছে। বাস্তিল স্কোয়ার সহ একাধিক পর্যটনকেন্দ্রে বিক্ষোভ ও জমায়েতেও নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। তবে শত চেষ্টা সত্ত্বেও বিক্ষোভ ঠেকানো যায়নি।
হিংসা দমনে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে রবিবার ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ পত্রপাঠ তা খারিজ করে দেন। লুনেজকে পরিকল্পনা ও গোয়েন্দাদের ব্যর্থতা নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বলেন ম্যাক্রঁ। পাশাপাশি হিংসা থামাতে পুলিশি রণকৌশলে বদল আনার পরামর্শও দেন তিনি। যাবতীয় হিংসার জন্য অতি বামপন্থী সংগঠন ও সুবিধাবাদী লুটেরাদের দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে, যাবতীয় ঘটনার দায় প্রশাসনের উপরেই চাপিয়েছেন কট্টর দক্ষিণপন্থী ‘ন্যাশনাল র‌্যালি’-র সভাপতি জর্ডন বার্ডেলা। তাঁর কথায়, ‘সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। শুধু বিক্ষোভ নয়। মানুষকে ভোটদানের ক্ষমতা প্রয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এদিকে বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্যের জন্য ম্যাক্রঁর তোপের মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এর পিছনে রয়েছে শরণার্থী, জেহাদিরা। এহেন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ইউরোপের সীমান্ত বন্ধের পরামর্শ দেন তিনি। জবাব দিতে একটুও দেরি করেননি ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এই বিক্ষোভকে ব্যবহার করছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। বুধবার ম্যাক্রঁ বলেন, ‘কিছু মানুষ ফ্রান্সকে সামনে রেখে ভোট প্রচার চালাচ্ছেন। রাষ্ট্রনেতাদের এহেন বোকা মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না। এর মধ্যে ট্রাম্পও রয়েছেন।’ 
ফ্রান্সের পাশাপাশি বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ইতালিও। মিলান, রোম সহ বিভিন্ন শহরে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে যুব সমাজ। জ্বালানি, মূল্যবৃদ্ধি সহ একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন ট্রাক চালক, কৃষকরা। ইতিমধ্যে ৩৩০ জন মানুষকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি দমনে বিভিন্ন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে মেলোনি প্রশাসন। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভাঙচুর আর লুটপাট বিক্ষোভ নয়, অপরাধ। প্রশাসনকে কড়া জবাব দিতেই হবে।’