নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাইকোর্টের ভর্ৎসনার পর অবশেষে ছত্তিশগড়ে মুক্তি পেলেন মুর্শিদাবাদে আটকে থাকা চারজন পরিযায়ী শ্রমিক। বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে একমাসেরও বেশিকাল তাঁদের আটকে রাখা হয় সেখানে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানির আগেই ছত্তিশগড়ের হোল্ডিং সেন্টার থেকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
গত সোমবার এই মামলায় ছত্তিশগড় প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও ছত্তিশগড় সরকারের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এসআইআরের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায়, ট্রাইবুনালে আবেদন করেন ওই চার শ্রমিক। সেই আবেদন এখনো বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে বিলাসপুরের পুলিশ সুপার তথা ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এফআরও) কীভাবে তাঁদের নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল আদালত। বিচারপতি রাও প্রশ্ন করেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি বলেন যে কিছু লোক ভারতীয় নাগরিক নন, তাহলে আপিল কর্তৃপক্ষ বা ট্রাইবুনাল কী করবে? নির্বাচন কমিশন কি সাধারণ মানুষের সঙ্গে খেলা করছে?’
হাইকোর্টের এই দাওয়াইয়ে কাজ হয়েছে। ছাড়া পেয়েছেন শফিকুল ইসলাম (৩৯), সাবির শেখ (৪২), নাসিরুদ্দিন শেখ (৩৫) এবং লালটু শেখ (২৮)। কাজের খোঁজে তাঁরা মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এবং সাহাবাদ থেকে ছত্তিশগড়ে গিয়েছিলেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরে জিনিসপত্র বিক্রি করতেন তাঁরা। গত ৪ সেপ্টেম্বর বিলাসপুরের সিরগিটি থানার চুঞ্চিয়াপাড়া-গণেশনগর এলাকা থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে ২৩ জন বাঙালি শ্রমিককে আটক করে ছত্তিশগড় পুলিশ। পরে তাঁদের রায়পুরের একটি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় দেওয়ানি আদালতের নির্দেশে ১৯ জন মুক্তি পেলেও ভোটার তালিকায় নাম না-থাকায় ওই চারজনকে আটকে রাখা হয়েছিল। এবার হাইকোর্টে মামলা করায় তাঁরাও ছাড়া পেলেন।