সংবাদদাতা, সিউড়ি: ১৯৯৯ সালে ৩ মে কাশ্মীরের কার্গিলে শুরু হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। চলেছিল প্রায় তিন মাস ধরে। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ২৬ বছর। কার্গিল দিবসে সেই স্মৃতির কথা শোনালেন সিউড়ির হাটজনবাজার কলোনির কার্গিল যোদ্ধা মৃণালকান্তি দাস। তিনি সেই যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তাই প্রতিবছর এই দিনটিতে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মৃণালবাবু জানান, কার্গিলের যুদ্ধের সময় তিনি সেনা বাহিনীর নায়েব সুবেদার সিগন্যাল অপারেটর ছিলেন। কার্গিলের যুদ্ধের সময় টানা ১৩ দিন সেই কাজ করে গিয়েছিলেন।
মৃণালবাবু জানান, যখন কার্গিল যুদ্ধ শুরু হয়, তখন আমি জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুরে ছিলাম। সেখান থেকে আমাদের একটি স্পেশাল কমিউনিকেশন ডিটাচমেন্ট নিয়ে পাঠানো হয় কার্গিল থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে পান্দ্রাস নামে একটি জায়গায়। তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে প্রথম প্রথম একটু ভয় পেয়েছিলাম। কারণ আচমকা গোলাগুলি শুরু হয়ে যেত। একবার আমাদের একেবারে কাছেই সেলিং শুরু হয়। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ছুটে নিরাপদে আশ্রয়ে চলে যাই। প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে চলেছিল সেলিং। সেই অভিজ্ঞতা ভোলার নয়। এক সময় মনে হয়েছিল, আর বাঁচব না। তবে দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিলাম।
তিনি বলেন, আমাদের নিজেদেরই রান্না করতে হতো। প্রথম কয়েকদিন আমরা সেটা করতে না পারায় কয়েকজন গ্রামবাসী রুটি আর ডাল দিত। তাতেই দিন কাটাতে হতো। সব থেকে আনন্দ পেয়েছিলাম ২৬ জুলাই। ওইদিন যুদ্ধ জয়ের কথা ঘোষণা হয়েছিল। এখন যেখানে কার্গিল ওয়ার মেমোরিয়াল রয়েছে, সেখানেই সৈনিক সম্মেলন হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন জেনারেল সাহেব, নর্দান কামান্ড সহ বেশ কিছু অফিসার। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর লাঞ্চ পার্টি হয়েছিল। আমরা সকলেই আনন্দে নেচে ছিলাম। যুদ্ধ জয়ের আনন্দটা যে কী, সেদিন বুঝেছিলাম। ২৬ জুলাই এলেই আনন্দে নেচে ওঠে মন। • মৃণালকান্তি দাস