Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

জিডিপির পর এবার জিএসটি আদায় বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তুললেন মোদি সরকারের প্রাক্তন অর্থসচিব

উৎসব মরশুমের গোড়াতেই বিরাট লাফ জিএসটি সংগ্রহে। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে, সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে আদায়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ২ লক্ষ ৩ হাজার ৫২১ কোটি টাকায়।

জিডিপির পর এবার জিএসটি আদায় বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তুললেন মোদি সরকারের প্রাক্তন অর্থসচিব
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনধি, নয়াদিল্লি: উৎসব মরশুমের গোড়াতেই বিরাট লাফ জিএসটি সংগ্রহে। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে, সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে আদায়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ২ লক্ষ ৩ হাজার ৫২১ কোটি টাকায়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় যা প্রায় ১৪.৭ শতাংশ বেশি। এই নিয়ে চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছ’মাসেই জিএসটি বাবদ সরকারি কোষাগারে এসেছে ১২ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় ১১.৬ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বরে রিফান্ডের পরিমাণ ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকায়। কেন্দ্রের এই দাবিকেও অবশ্য বৃহস্পতিবার খণ্ডন করেছেন মোদি সরকারের প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ। জিডিপির পর এবার জিএসটি আদায় বৃদ্ধি নিয়েও তিনি মুখ খুলেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যে গালভরা দাবি করেছে সেটি একটু বেশি সাহসী হয়ে যাচ্ছে না? কারণ, আদতে তো  গত মাসে কেন্দ্রীয় রাজকোষে যে জিএসটি এসেছে, তা মাত্র ২.৯২ শতাংশ। আদতে জিএসটি আদায় কমে গিয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা হল, সিজিএসটি, আইজিএসটি এবং সেস হল কেন্দ্রীয় সরকারের আদায়। রাজ্যের আদায় করা জিএসটিকে দেখিয়েই সরকারি কোষাগারে আসা অর্থের পরিমাণকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখাচ্ছে মোদি সরকার। শুধু সুভাষচন্দ্র গর্গ নন, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিব রাজকুমার সিং, প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যম, প্রাক্তন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নর রঘুরাম রাজন—মোদি সরকারের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা একের পর এক সর্বোচ্চ আধিকারিক ইদানীং লাগাতার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচার-দাবির সঙ্গে বাস্তবের সাদৃশ্য যে বেশ কম, এই তোপ সকলেই কমবেশি দেগেছেন। সুভাষচন্দ্র গর্গ কিছুদিন আগেই জিডিপি বৃদ্ধিহার নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘সরকার যে জিডিপি রিপোর্ট প্রকাশিত করেছে সেটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে মোটেই ৭.৮ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধিহার হয়নি। বাস্তবে বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আর্থিক বৃদ্ধিহার মাত্র ২.৬ শতাংশ।’ এমনকি তিনি এও বলেছেন যে, এই ২.৬ শতাংশকে আরও কিছু ফ্যাক্টর দিয়ে ব্যাখ্যা করা হলে জিডিপি বৃদ্ধিহার শূন্যই বলা ভালো। তাতে প্রবল ক্ষুব্ধ হয়েছিল ভারত সরকার এবং বিজেপি। এদিন তিনি বেছে নিয়েছেন জিএসটি সংগ্রহের সরকারি পরিসংখ্যানকে। তাঁর দাবি, জিএসটি খাতের গত পাঁচ মাসের হিসাব আরও উদ্বেগজনক। আদতে কেন্দ্রীয় সরকারের জিএসটি আদায় ৩.৫৯ শতাংশ কমে গিয়েছে। অর্থাৎ নেগেটিভ গ্রোথ। তিনি উদাহরণ দিয়ে জানিয়েছেন, গত আর্থিক বছরের প্রথম পাঁচ মাসে জিএসটি সংগ্রহ হয়েছিল ৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। সেখানে চলতি অর্থবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে আদায়ের পরিমাণ ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা।

Advertisement

গর্গের এই যুক্তি যথারীতি এবারও উড়িয়ে দিয়েছে সরকারপক্ষ। গত ৯ সেপ্টেম্বরও গর্গ বলেছিলেন, ‘জিএসটি নিয়ে সরকার ভুল তথ্য দিচ্ছে। আসলে কিন্তু জিএসটি বৃদ্ধিহার কমছে। মাইনাসও হয়ে যাচ্ছে। কারণ, ব্যবসা বাণিজ্য কমছে। সেটা সরকার দেখাতে চায় না।’ গর্গের এই যুক্তিকে ‘হাস্যকর ও বিশেষ স্বার্থান্বেষী’ আখ্যা দিয়েছে সরকারপক্ষ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ