প্রীতেশ বসু, কলকাতা: এতদিন মানুষের জন্য কাজ করার পর এবার ভগবানের সেবাকার্যে নিযুক্ত হতে চান এক প্রাক্তন বাঙালি আইএএস অফিসার। সরকারি কাজকর্ম থেকে সদ্য অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, ‘জীবন তো একটাই! তাই ঘরে বসে না থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কিছু না কিছু ভালো কাজ করে যেতে চাই। তবে অবসরের পর অন্য কিছু আমলার মতো কোনো প্রাইভেট সংস্থায় উপদেষ্টার চাকরি করতে চাই না।’
এই ধারাবাহিকতার বাইরে পৃথক কিছু করাই তাঁর লক্ষ্য। এই প্রাক্তন আমলা বলেন, ‘সেক্ষেত্রে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের সেবা করার থেকে ভালো কিছু হতে পরে না। অন্যদের জন্য সুষ্ঠুভাবে রামলালার দর্শনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কাজটিও চমৎকার!’ সেই কারণে, বেশি কিছু না-ভেবেই অযোধ্যায় রামমন্দিরের সিইও হতে চেয়ে আবেদনপত্র পাঠিয়ে দিলেন বিশ্বজিৎবাবু। এই প্রাক্তন আমলার কর্মজীবন শুরু ১৯৯০ সালে। তখন ছিলেন গোরুবাথানের বিডিও। পরে আইএএস হয়ে সচিব র্যাঙ্কে পৌঁছে চাকরি থেকে অবসর নেন।
প্রণামি দুর্নীতির আবহে এই পদে আবেদনের অন্যতম প্রধান শর্ত হল—‘সৎ’ হওয়া আবশ্যক। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে রামমন্দির ট্রাস্ট্র আরও শর্ত রেখেছে, বৈষ্ণব সম্প্রদায়ভুক্তরা অগ্রাধিকার পাবেন। তাঁর কর্মজীবনে কোনো ‘দাগ’ নেই বলেই দাবি করেছেন বিশ্বজিৎ দত্ত। ওইসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ দেব পরম্পরায় শ্রীমদ ভূমানন্দ দেবের দীক্ষিত তিনি। তিনি যে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ভুক্ত তারও প্রমাণ পেশ করেছেন এই প্রাক্তন বাঙালি আইএএস অফিসার।
তিনি আরও বলেন, ‘ওঁরা মোটামুটিভাবে যা যা চেয়েছেন আমার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাসহ তার সবগুলিই রয়েছে। অতএব চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কী? তাই ব্যক্তিগত এবং কর্মজীবনের খুঁটিনাটি তথ্যসহ আবেদনপত্র পাঠিয়েছি। অপেক্ষায় রয়েছি। যদি কোনো সাড়া মেলে।’ ডব্লুবিসিএস এগজিকিউটিভ অফিসার হিসাবে জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দিরে ভক্তদের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তারপর বারুইপুরের বিডিও হিসাবে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থেকেছি গঙ্গাসাগর মেলার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। আমার এমন একাধিক অভিজ্ঞতা এই কাজের উপযুক্ত হতে পারে।’
বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘আর আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং ম্যানেজারিয়াল কাজেরও অভিজ্ঞতা রয়েছে। যেমন—গোরুবাথান, ভগবানগোলা-২ এবং খাতরার মতো জায়গায় বিডিও ছিলাম। এসডিও হিসাবে একেবারে মাঠপর্যায়ের কাজ করেছি। এমনকি মন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্রেটারির দায়িত্ব সামলাবার অভিজ্ঞতাও আমার ঝুলিতে।’