Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে জঙ্গলে আগুন! ঝলসে বৃদ্ধার মৃত্যু, আতঙ্ক

ঝাড়গ্রামে জঙ্গলের শুকনো পাতায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে একের পর এক জঙ্গল।

ঝাড়গ্রামে জঙ্গলে আগুন! ঝলসে বৃদ্ধার মৃত্যু, আতঙ্ক
  • ৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে জঙ্গলের শুকনো পাতায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে একের পর এক জঙ্গল। মঙ্গলবার দুপুরে ঝাড়গ্রাম ব্লকের ছোট ডিডিহা গ্ৰাম লাগোয়া জঙ্গলে আগুন লাগে। আগুন গ্ৰামের দিক আসতেই হাঁড়ি, কলসি, বালতি নিয়ে গ্ৰামের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েন। বৃদ্ধা কল্পনা মাহাত (৬৮) জঙ্গল লাগোয়া ফলের বাগান বাঁচাতে ছুটে যান। আগুনের মধ্যে পড়ে ঝলসে যান তিনি। দমকল বাহিনীর তৎপরতায় গ্ৰাম রক্ষা পেয়েছে। 

Advertisement

ঝাড়গ্রামের আগুইবনী পঞ্চায়েতের জঙ্গল ঘেরা গ্ৰাম ছোট ডিডিহা। ২০-২২টি পরিবার বসবাস করে। গ্ৰামের বাসিন্দারা সকাল থেকে বসন্ত উৎসবর আনন্দে আনন্দে মেতেছিলেন। দুপুর ১২টা নাগাদ কালো ধোঁয়া ও জঙ্গলের ভিতরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। গ্ৰামের দিকে সেই আগুন ধেয়ে আসছিল। এলাকার বাসিন্দারা জঙ্গল সংলগ্ন জমিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতা সরাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাঁড়ি, কলসি ও বালতিতে করে জল এনে শুকনো ঘাস ভেজাচ্ছিলেন। বৃদ্ধা কল্পনাদেবী ছোট বউমাকে নিয়ে নিজেদের জমিতে থাকা জঙ্গল লাগোয়া বাঁশ ঝাড় ও ফলের বাগান রক্ষার চেষ্টা করছিলেন।  জঙ্গলের আগুনে শিখার মধ্যে আটকে পড়ে ঝলসে যান। ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 
মৃতার বড় ছেলে গণেশ মাহাত বলেন, জঙ্গলের আগুন থেকে আমাদের বাড়ি ১০০মিটার দূরে ছিল। জঙ্গলের গা লেগে আমাদের ফলের বাগান রয়েছে। ভাই ও আমি ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলাম না। আগুন এগিয়ে আসতে দেখে গ্ৰামের সব বাসিন্দা জমিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতা সরাতে নেমেছিলেন। শুকনো ঘাসে জল ঢালা হচ্ছিল। মা ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জঙ্গলের কাছে ছিল। মা আগুনের শিখার মধ্যে পড়ে পুড়ে যায়। গ্ৰামের বাসিন্দা আদিত্য মাহাত বলেন, গ্ৰামের উত্তর পশ্চিম দিক থেকে আগুন ধেয়ে আসছিল। শুকনো পাতা সরিয়ে ঘাসে জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছিল। জঙ্গলের ভিতর থেকে আচমকা ঘূর্ণি হাওয়া বের হয়ে আসে। আগুনের শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যরা পালাতে পারলেও ওই বৃদ্ধা ঝলসে যান। 
আগুইবনী পঞ্চায়েতের প্রধান দীনেশ মাহাত বলেন, জঙ্গলে আগুন লাগলে দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। গ্ৰামবাসীরা প্রথম আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন। দমকল বাহিনী দ্রুত আসায় গ্ৰামের বাসিন্দারা রক্ষা পেয়েছেন। না হলে আরও বড় বিপদ হতে পারত। মৃত বৃদ্ধা আমাদের আত্মীয়া ছিলেন। প্রশাসনের তরফে ওই পরিবার যাতে ক্ষতিপূরণ পায় তা দেখা হচ্ছে। গ্ৰামজুড়ে এখনও আতঙ্ক রয়েছে। 
ঝাড়গ্রাম দমকল বাহিনীর ওসি কুন্তল সামুই বলেন, খবর পেয়েই দমকল গ্ৰামে ছুটে যায়। পার্শ্ববর্তী জঙ্গলেও তখন আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনলে গ্ৰামে ছড়িয়ে পড়ত। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, জঙ্গলটি লোধাশুলি রেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। বনবিভাগ জঙ্গলে আগুন লাগানো রুখতে ধারাবাহিকভাবে প্রচার চালাচ্ছে। তারপরও আগুন ধরানো হচ্ছে। আমাদের তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।  ঝাড়গ্রামের পুকুরিয়ার পাথরনালা জঙ্গলে আগুন নেভাচ্ছেন বনকর্মীরা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ