


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘাত নতুন কিছু নয়। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও দিনদিন বাড়ছে। সেকথা মাথায় রেখে এবার মেদিনীপুর ডিভিশন এলাকায় থার্মাল ড্রোন টেকনোলজি ব্যবহার শুরু করল বনদপ্তর। পশ্চিম সার্কেলের অধীন মেদিনীপুর ডিভিশনে নতুন ড্রোনটি ইতিমধ্যেই হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, জঙ্গলমহলে রাতের অন্ধকার, ঘন কুয়াশা অথবা ঘন জঙ্গল এলাকায় দৃশ্যমানতা কম থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ থার্মাল টেকনোলজি ড্রোন ব্যবহার করে হাতির দলকে দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এর ফলে হাতির দল মাঠে নামার আগেই বনদপ্তর স্থানীয় গ্রামবাসীদের সতর্কবার্তা পাঠাতে পারবে। একই সঙ্গে সময়মতো সতর্কতামূলক বার্তা পেয়ে যাওয়ায়, গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা বাড়বে। একইসঙ্গে আচমকা হাতির মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি কমবে। জানা গিয়েছে, ড্রোন থেকে প্রাপ্ত রিয়েল-টাইম তথ্যের ভিত্তিতে বনদপ্তরের আধিকারিকরা বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছেন। যার ফলে হাতির দলকে দ্রুত নিরাপদে বনাঞ্চলে ফেরানো সহজ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে থার্মাল ড্রোন টেকনোলজি ব্যবহার করেছে বনদপ্তর।
বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত জঙ্গলমহলের মানুষের খোঁজখবর নেন। হাতি-মানুষের সংঘাত কমাতেই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বনদপ্তরের নিয়ম অনুসারে হাতি-মানুষ উভয়ই যাতে সমস্যায় না পড়ে সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। অক্লান্ত পরিশ্রম করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনকর্মীরা কাজ করছেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলায় হাতিই সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই জেলা ছাড়াও ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া জেলায় হাতির হানায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মেদিনীপুর, খড়্গপুর ও রূপনারায়ণ ডিভিশন এলাকায় প্রায়দিনই হাতির তাণ্ডব চোখে পড়ছে। গত এক বছরে মেদিনীপুর ডিভিশনে কয়েকশো হেক্টর জমির ধান ও বিভিন্ন মরশুমি সব্জির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চলতি বছরে মেদিনীপুর বনবিভাগ এলাকায় হাতির হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হাতির হানায় চারজন জখম হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হাতির মোকাবিলা করতেই আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহারে জোর দিচ্ছে বনবিভাগ। বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, জঙ্গলের ভিতর হাতির জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে লোকালয়ে হাতির তাণ্ডব চালানোর আশঙ্কা কমে। বর্তমানে জঙ্গলের ভিতরে বাঁশগাছ লাগানো হচ্ছে। এর সঙ্গে জলের সমস্যা দূর করতে জলাশয় খনন করা হচ্ছে।
মেদিনীপুর সদর ব্লকের চাঁদড়া এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব মাইতি বলেন, মেদিনীপুর সদর ও শালবনী ব্লকে প্রায় সারা বছরই হাতি থাকে। শুনেছি, এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে চাষের জমিতে হাতি ঢুকলেই বনকর্মীরা বুঝতে পারবেন। দারুণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জমির ফসলের ক্ষয়ক্ষতি না হলেই আমরা খুশি। কারণ এই ফসলের উপরই আমাদের সংসার চলে।