নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অন্য মহিলারা যখন সংসার-পরিবার-সন্তান নিয়ে উৎসবে মাতোয়ারা, তখন ঢাক কাঁধে মণ্ডপের পথে অশোকনগরের মহিলারা। তাঁদের পুজো ঢাক বাজাতে বাজাতেই কাটবে। তাঁদের পরিশ্রম সবার উৎসবে আলো ছড়ায়। আর তাঁদের নিজেদের সংসারের কিছুটা হলেও হাল ফেরে। তাই পুজোর দিনগুলি নিজেদের ঘর-সংসার ছেড়ে রঞ্জনা, সুমিত্রা, করুণা, গীতারা যান কোনো পুজো প্যান্ডেলে। ঢাকে বোল তুলে আনন্দে মাতান সবাইকে। অশোকনগরের কয়াডাঙা নট্টপাড়ায় ঢাকি সজল নন্দী। তাঁর কাছে তালিম নিয়ে কয়েকবছর ধরে বাজাচ্ছেন মহিলারা। সজলের দলে এখন প্রায় ১৫০ মহিলা ঢাকি। মহিলারা মাথায় কুলো, তার উপর কলসি এবং ব্যাটারিতে চলে এমন আলো নিয়ে নাচে ছন্দ তোলেন। তাঁদের ঢাক বাজানোর চমৎকার ভঙ্গিও নজর কাড়ে দর্শকদের। এবারও পুজোর সময় বাড়তি উপার্জনের আশায় দল বেঁধে বেরিয়ে পড়েছেন। ছত্তিশগড়ে গিয়েছেন অঞ্জনা নন্দী ও করুণা পালরা। দিল্লি গিয়েছেন অজয় নন্দী, সমীর মণ্ডল, মিঠুন পাল ও সুমন নট্ট। নিউটাউন সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোয় গিয়েছেন সজল নন্দী, বাসু নট্ট, পারুল মণ্ডল, চম্পা টিকাদার ও গীতা গোলদার। সজল বলেন, অধিকাংশ মহিলা ঢাকির আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। সংসার চালাতে কেউ অন্যের বাড়ি কাজ করেন। পুজোর সময় এভাবে তাঁরা একটু বাড়তি আয় করতে পারেন।’



