


কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর: ১১ বারের বিধায়ক। অথচ তিনিই টিকিট পেলেন না! বিকেলে প্রার্থী ঘোষণার আগে ইসলামপুরের বিদায়ী বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরীর বাড়ির গোলঘরে ভিড় জমিয়েছিলেন অনুগামীরা। সবুজ আবির নিয়ে তৈরি ছিলেন টিকিট প্রপ্তি উদযাপন করবেন বলে। সময় গড়াতেই ফ্যাকাসে হয়ে গেল তাঁদের চেহারা। এরপর একে একে সবাই ফিরে গেলেন নিজেদের কাজে। কারণ,ততক্ষণে কলকাতা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে দিয়েছেন ইসলামপুরে এবার প্রার্থী করা হচ্ছে দলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালকে।
কয়েক মাস ধরেই ইসলামপুরের প্রার্থী নিয়ে জল্পনা চলছিল। করিম না কানাইয়া, কে প্রার্থী হচ্ছেন, সেই চর্চার অবসান ঘটল এদিন। নাম ঘোষণার পরেই কানাইয়ার ইসলামপুরের বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড় উপচে পড়ে।
২০১৬ সালের নির্বাচনে ইসলামপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন কানাইয়া। তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল করিম চৌধুরীকে পরাজিত করে তিনি বিধায়ক হয়েছিলেন। এরপর তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কানাইয়াকে রায়গঞ্জ আসন থেকে প্রার্থী করেন মমতা। এজন্য তাঁকে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। কানাইয়া পরাজিত হলেও নেত্রী তাঁকে দলের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি করেন। এরপর ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছিল কানাইয়াকে। তবে তিনি পরাজিত হন। ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে পুরসভার চেয়ারম্যান ও পরে বিধায়ক হয়েছিলেন। এবার ফের সুযোগ পেলেন তিনি।
কানাইয়া বলেন, দল আমাকে যখন যা দায়িত্ব দিয়েছে, নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। সংগঠনের শক্তির ভিত্তিতে এবার ইসলামপুরে জয়ী হব। করিম প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, তিনি তো দলেই আছেন। আমরা একসঙ্গেই দলের জন্য কাজ করব। ইসলামপুরে করিম-কানাইয়া শিবিরের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এদিন চেষ্টা করেও করিম চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মাসখানেক আগে করিম দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকেই প্রার্থী করবেন। বাস্তবে তা হল না। এবার তিনি কী ভূমিকা নেবেন? তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। করিম অনুগামীরা অবশ্য এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনুগামী নুরউদ্দিন বলেন, দল ঘোষণা করেছিল ‘এক ব্যক্তি এক পদ’। কানাইয়াবাবু পুরসভার চেয়ারম্যান ও দলের জেলা সভাপতি। এবার তাঁকেই দলের প্রার্থী করা হয়েছে। কিন্তু করিম চৌধুরী দুর্দিনে দলের সঙ্গে ছিলেন। উত্তরবঙ্গে দলের প্রথম বিধায়ক হয়েছিলেন। দল তাঁকে যোগ্য সন্মান
দিল না।