Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৬ মাস আগে তৈরি হয়েছিল, ধসে পড়ল জাতীয় সড়কের ওভারব্রিজ! নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

চালু হওয়ার ছ’মাসের মধ্যেই মেমারির সরডাঙায় ধসে গেল জাতীয় সড়কের ওভারব্রিজ। বুধবার সকালে কলকাতা থেকে বর্ধমানগামী লেনে আচমকাই ধস নামে।

৬ মাস আগে তৈরি হয়েছিল, ধসে পড়ল জাতীয় সড়কের ওভারব্রিজ! নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
  • ১২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, মেমারি: চালু হওয়ার ছ’মাসের মধ্যেই মেমারির সরডাঙায় ধসে গেল জাতীয় সড়কের ওভারব্রিজ। বুধবার সকালে কলকাতা থেকে বর্ধমানগামী লেনে আচমকাই ধস নামে। সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে বাস বা কোনো যানবাহন থাকলে বড় ধরনের বিপদ ঘটে যেত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার জন্যই এই পরিণতি হয়েছে। বালি না দিয়ে ফ্লাইঅ্যাশ দিয়ে ওভারব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। এমনকি, যে রড ব্যবহার করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের।’ কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এক আধিকারিক বলেন, খড়্গপুর আইআইটিকে দিয়ে তদন্ত করানো হচ্ছে। ১৫ দিনের মধ্যে তারা রিপোর্ট দেবে। তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

Advertisement

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শেখ বাপ্পা বলেন, হঠাৎ করেই দেখি, ওভারব্রিজের চাঙর খসে পড়ল। কিছুক্ষণ মধ্যেই গার্ডওয়াল সহ রাস্তা ধসে যায়। কয়েক মিনিট আগে একটি বাস পেরিয়ে যায়। সেই সময় গার্ডওয়াল ধসে পড়লে বাসটি উপর থেকে নীচে পড়ত। বহু লোকের প্রাণহানি হত। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ওভারব্রিজ তৈরির জন্য প্রচুর পরিমাণে ছাই ব্যবহার করা হয়েছিল। অভিযোগ, বেশি লাভ পাওয়ার জন্য ঠিকাদার সংস্থা ছাই ব্যবহার করেছে। ওভারব্রিজ তৈরির কাজে সরু রড ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, যখন তখন টোলট্যাক্স বাড়িয়ে দেওয়া হয়। টোল থেকে বিপুল টাকা আয় হচ্ছে, কিন্তু রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে তার কিছুই খরচ করছে না। নজরদারিও নেই। তাই এমন ঘটনা ঘটছে।
এলাকার বাসিন্দা সামসুদ্দিন শেখ বলেন, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষর উচিত ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। মূল যে সংস্থা টেন্ডার পেয়েছিল, তারা অন্য ঠিকাদারকে কাজ দেয়। বাড়তি লাভের আশায় ওই  ঠিকাদার সংস্থা দায়সারা কাজ করেছে। নির্মানের সময় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের যতটা নজরদারি চালানোর দরকার ছিল ততটা করেনি। এদিনের ঘটনার পর জাতীয় সড়কের উপর নির্মিত অন্য ওভারব্রিজগুলি কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। রাতের দিকে গার্ডওয়াল সহ ওভারব্রিজ ধসে গেলে একের পর এক দুর্ঘটনা হতে পারত। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পর এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, তখনও ওভারব্রিজ থেকে ছাই নেমে আসছে। বেশ কিছুটা অংশ বেঁকে রয়েছে। কলকাতা থেকে বর্ধমানমুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও সার্ভিস রোড দিয়ে গাড়ি যাওয়ায় খুব একটা সমস্যা হয়নি। তবে, ওই ঘটনার পর ট্রাক চালকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এক ট্রাক চালক বলেন, জাতীয় সড়কেই আমাদের দিন কাটে। এদিন যা ঘটল তাতে আতঙ্ক নিয়েই গাড়ি চালাতে হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ