পালঘর ও বিশেষ সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: প্রবল বর্ষণ-বন্যায় বিধ্বস্ত অসমের বিস্তীর্ণ অংশ। বেহাল দশা গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের পালঘরেরও। অসমের ১১টি জেলায় বানভাসি অবস্থা। ইতিমধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫০। নিখোঁজ অন্তত ৪০ জন। গত দু’দিনের বৃষ্টিতে মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী জেলায় মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।
জানা গিয়েছে, গত ছ’দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। ফলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে অসমের বন্যা পরিস্থিতি। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ ছুঁয়েছে। নিখোঁজ প্রায় ৪০ জন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, বন্যায় বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্লাবিত জেলাগুলিতে ৬০ হাজারেরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন। শুক্রবার রাজ্যের ‘ডিজাস্টার রিপোর্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৭ লক্ষ ২১ হাজার মানুষ। দুর্গতদের আশ্রয় ও সহায়তার জন্য রাজ্যজুড়ে ১০০টিরও বেশি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। এদিকে, আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কালও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গত দু’দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন পালঘরের একাধিক শহর ও গ্রাম। প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। তার মধ্যে তিনজনই দাহানু তালুকের বাসিন্দা। আর একজনের পরিচয় জানা যায়নি। বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় আটকে পড়েছেন বহু মানুষ। এর পরেই উদ্ধারকাজ জোরদার করেছে প্রশাসন। গুজরাতের ভালসাড়, নভসারি, সুরাত, আমেদাবাদ ও খেড়া জলে ভাসছে। ৩৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও সেনা উদ্ধারে নেমেছে। বানভাসি গুয়াহাটি। ছবি: পিটিআই