সংবাদদাতা, ঘাটাল: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রেলপথের স্বপ্ন এবার হয়তো বাস্তবায়িত হতে চলেছে। ঘাটাল মহকুমাকে রেল মানচিত্রে সংযুক্ত করার বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে বিদ্যাসাগর রেলপথ মিশন। সোমবার রাতে ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় মিশনের পক্ষ থেকে ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী পাঁশকুড়া-ঘাটাল-ইড়পালা রেলপথের জমিজট দ্রুত মেটানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিদ্যাসাগর রেলপথ মিশনের সভাপতি প্রসেনজিৎ কাপাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। সেকারণেই তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩০সেপ্টেম্বর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭তম জন্মতিথিতে তাঁর জন্মভিটে বীরসিংহে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে থমকে থাকা পাঁশকুড়া-ঘাটাল-ইড়পালা রেলপথের জমি অধিগ্রহণের জট কাটাতে জেলা প্রশাসন ও ভূমিদপ্তরকে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত মহকুমার মানুষ। চন্দ্রকোণা-ঘাটাল রেলপথ নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সমীরকুমার ঘোষও মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপে খুশি। তবে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি, প্রস্তাবিত রেলপথের বীরসিংহ থেকে একটি শাখা চন্দ্রকোণা টাউন হয়ে চন্দ্রকোণা রোড রেল স্টেশন পযর্ন্ত সম্প্রসারিত করা হোক। এই দাবি পূরণের লক্ষ্যে তাঁরা ইতিপূর্বেই রাষ্ট্রপতি, রেলমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
ঘাটাল মহকুমায় বর্তমানে কোনো রেলপথ নেই। রেলপথে যাতায়াতের জন্য মহকুমা শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে পাঁশকুড়া অথবা ৪২ কিলোমিটার দূরে চন্দ্রকোণা রোড স্টেশনই সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা। ২০০৯-২০১১ সালের মধ্যে তৎকালীন রেলমন্ত্রীর আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁশকুড়া থেকে ঘাটাল পর্যন্ত রেলপথের বিষয়টি প্রথম বাজেটে নথিভুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে জমি জরিপের কাজ বা আংশিক বরাদ্দ হলেও মূল প্রকল্পটি থমকেই ছিল। প্রসেনজিৎবাবু বলেন, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সদর দপ্তর থেকে জানা যায়, বিশেষ কারণে পাঁশকুড়া-ঘাটাল রেলপথ তৈরির প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। প্রকল্পটিকে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পুনরায় ডিফ্রিজ করে টাকা মঞ্জুর ও টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু করার দাবি জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে আসছিল বিদ্যাসাগর রেলপথ মিশন। চলতি বছরের মার্চ মাসে রাজ্যসভার এক সাংসদ ঘাটালকে রেল মানচিত্রে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে চিঠি দেয় চন্দ্রকোণা-ঘাটাল রেলপথ নাগরিক উন্নয়ন কমিটি। দীর্ঘ টালবাহানার পর সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশিকায় জমিজট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় নতুন করে রেল চালুর আশায় বুক বাঁধছে ঘাটালবাসী।