Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রথম প্রতিবাদ কর্মসূচি, নেই ৪৫ বিধায়ক, ক্ষোভে আড়াআড়ি ভাগ তৃণমূলের অন্দরমহল?

রাজ্যে পালাবদলের পর বুধবার বিধানসভায় দলীয় বিধায়কদের নিয়ে প্রথম কর্মসূচি করল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেখানেই গরহাজির থাকলেন দলের ৪৫ জন বিধায়ক।

প্রথম প্রতিবাদ কর্মসূচি, নেই ৪৫ বিধায়ক, ক্ষোভে আড়াআড়ি ভাগ তৃণমূলের অন্দরমহল?
  • ২১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর বুধবার বিধানসভায় দলীয় বিধায়কদের নিয়ে প্রথম কর্মসূচি করল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেখানেই গরহাজির থাকলেন দলের ৪৫ জন বিধায়ক। মোট ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের অর্ধেকের বেশি অনুপস্থিত থাকায় রাজনৈতিক মহলে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়েছে। কেন এতজন এলেন না? তাঁরা কি দলকে আগেই জানিয়ে ছিলেন? তাঁরা এদিন কী করলেন? এরকম নানা প্রশ্নে চলছে জোর চর্চা। বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের একাধিক নেতানেত্রী দল পরিচালনা সহ নানা বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এদিন বিধানসভার কর্মসূচিতে এতজন বিধায়কের অনুপস্থিতি কি সেই ক্ষোভেরই জের? এই ঘটনা কি তৃণমূলের অন্দরে আড়াআড়ি বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? উঠছে সেই প্রশ্নও।

Advertisement

নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগে এদিন বিধানসভায় আম্বেদকর মূর্তির সামনে অবস্থানে বসেন তৃণমূল বিধায়করা। হকার উচ্ছেদ, পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদও কর্মসূচির অর্ন্তভুক্ত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩৫ জন। অশীতিপর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, পুলক রায়রা যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন নবাগত বিধায়ক কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা। কিন্তু সিংহভাগ বিধায়ক গরহাজির কেন? যাঁরা এদিন আসেননি, তাঁদের মধ্যে কেউ কি বিজেপি শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন? নাকি কেউ কংগ্রেসের দিকে পা বাড়াচ্ছেন? এরকম নানা প্রশ্নে চর্চা বাড়ছে তৃণমূলের অন্দরে। যদিও তৃণমূল পরিষদীয় দলের যুক্তি, এখন বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কর্মীরা অত্যাচার, হুমকির মুখে পড়ছেন। তাই অনেক বিধায়ককে এলাকাতে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশে থাকতে হচ্ছে। সেই কারণে তাঁরা আসতে পারেননি। তাদের এই ব্যাখায় অবশ্য জল্পনা থামছে না! কারণ, ভোটের ফল ঘোষণার পর ৬ মে কালীঘাটের বাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়কদের বৈঠক ডেকেছিলেন। সেটি ছিল প্রথম বৈঠক। সেদিন গরহাজির ছিলেন ৯ জন। ১৯ মে দ্বিতীয় বৈঠক হয় বিধায়কদের নিয়ে। সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন ১২ জন বিধায়ক। এবার অনুপস্থিতির সংখ্যা ৪৫। অর্থাৎ, দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত বিধায়কের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। 
এদিকে, কিছু পদ্ধতিগত জটিলতায় এখনও বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাননি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস এদিন বলেন, ‘শোভনদেববাবুকে ওই পদ দেওয়ার জন্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি এসেছিল। কিন্তু সেই চিঠিতে কতজন  বিধায়ক শোভনদেববাবুর পক্ষে সম্মতি দিয়েছেন, তাঁদের সই সহ তথ্য জমা পড়েনি।’ যদিও শোভনদেববাবুর পালটা যুক্তি, ‘পার্টি থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর স্পিকার নির্বাচনের দিন আমি নিজে বিধানসভায় ছিলাম। এরপর আর নতুন করে কোনো কাগজ দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ