


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কাঁথিতে স্বর্ণবন্ধকী ঋণদানকারী আর্থিক সংস্থায় ভেজাল ও নিম্নমানের সোনার গয়না রেখে ২৪লক্ষ ৭৩হাজার টাকার লোন ইস্যুর ঘটনায় ব্যাপক হইচই পড়ে গিয়েছে। ১১ফেব্রুয়ারি সংস্থার তরফে কাঁথি থানায় এফআইআর করা হয়েছে। ওই ঘটনায় কাঁথি শহরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিসারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ওই সংস্থা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে স্বর্ণবন্ধকী লোন ওই আর্থিক সংস্থায় ট্রান্সফার করার নামে অভিনব উপায়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। সংস্থার এরিয়া ম্যানেজার অনিরুদ্ধ বসু এনিয়ে কাঁথি থানায় এফআইআর করার পাশাপাশি পুলিশ সুপারকে তার কপি পাঠিয়েছেন। শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে বলেন, এনিয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি। মহকুমা পুলিশ অফিসার এবং কাঁথি থানার আইসি-র সঙ্গে কথা বলব।
জানা গিয়েছে, কাঁথি পুরসভার ১৭নম্বর ওয়ার্ডে কিশোরনগরের একটি আবাসনের বাসিন্দা সৌরভ মুখোপাধ্যায় শহরের একটি অর্থলগ্নি সংস্থায় গিয়ে গোল্ড লোনের ইচ্ছপ্রকাশ করেন। শহরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে তাঁর গোল্ডলোন আছে বলে দাবি করেন। সেই লোন ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে আর্থিক সংস্থায় ট্রান্সফার করতে চান। তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে বন্ধকী কার্ডও দেখান। এরপর ওই সংস্থার তরফে ব্যাংকের নথিপত্র যাচাই করে ২৪লক্ষ ৭৩হাজার ১৮১টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়। ওই লোন মঞ্জুর হওয়ার পর গ্রাহকের বন্ধক রাখা সোনা ব্যাংক থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলে আসার কথা। যথারীতি লোনের টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠানোর পর সৌরভ মুখোপাধ্যায় তাঁর বন্ধক রাখা সোনা ব্যাংক থেকে আর্থিক ওই প্রতিষ্ঠানে জমা করেন। দেখা যায়, সেই সোনা ভেজাল এবং নিম্নমানেরও। ওই প্রতিষ্ঠানের দাবি, বন্ধকী কার্ড দেখানোর সময় যে নথি দেখানো হয়েছিল, তারসঙ্গে জমা রাখা ওই সোনার কোনো মিল নেই।
ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এরিয়া ম্যানেজারের অভিযোগ, ওই গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংকের একাংশের আঁতাতের জেরে এরকম একটা ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ভেজাল ও নিম্নমানের সোনার বিনিময়ে তাঁদের সংস্থায় ২৪লক্ষ ৭৩হাজার টাকা লোন ইস্যু হয়েছে। অথচ, জমা রাখা ওই গয়নার মূল্য তার ধারেকাছেও যায়নি। গোটা ঘটনায় ওই গ্রাহকের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের কাছে আর্জি জানিয়েছে ওই সংস্থা।
কাঁথির ঘটনায় অভিযোগকারী অনিরুদ্ধবাবু বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যা হয়েছে সবটাই থানায় জানিয়ে এফআইআর করেছি। কাঁথির ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ম্যানেজার মুকেশ কুমার বলেন, স্বর্ণবন্ধকী লোন ট্রান্সফারের বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযুক্ত সৌরভ মুখোপাধ্যায়কে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপ করা হলেও রিপ্লাই দেননি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ফেব্রুয়ারি তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের নোনাকুড়ি শাখায় ভেজাল সোনা রেখে স্বর্ণবন্ধকী লোন নিতে আসা স্বপন বেরা ও কুহুমিতা মাইতি নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নকল সোনা চিহ্নিত হওয়ার পর দু’জনে সমবায় ব্যাংকের ওই শাখার জানালা দিয়ে সেসব ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, তাদের আটকে রেখে থানায় খবর দেওয়ার পর পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ফের এই ঘটনা সামনে আসায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।