ছোট্ট বন্ধুরা, মজার মজার হাতের কাজ তৈরি করতে কার না ভালো লাগে! কাগজ দিয়ে তৈরি নানারকম হাতের কাজ শেখাচ্ছেন শিল্পী পায়েলিমা মাইতি। তাঁর সঙ্গে কথা বললেন শান্তনু দত্ত।
ছোট্ট বন্ধুরা, মজার মজার হাতের কাজ তৈরি করতে কার না ভালো লাগে! কাগজ দিয়ে তৈরি নানারকম হাতের কাজ শেখাচ্ছেন শিল্পী পায়েলিমা মাইতি। তাঁর সঙ্গে কথা বললেন শান্তনু দত্ত।
তোমরা সত্যজিৎ রায়ের ‘ভুতো’ গল্পটি পড়েছ? সেখানে ভেন্ট্রিলোকুইস্টের উল্লেখ পাবে। জানো, ভেন্ট্রিলোকুইজম একধরনের পেশা। এখানে শিল্পীদের হাতে থাকে একটি পুতুল। সেই পুতুলগুলি আবার কথা বলতে পারে। না, সত্যিই সেই পুতুলগুলি কথা বলে না। বলেন ভেন্ট্রিলোকুইস্ট শিল্পী। তিনি ঠোঁট না নাড়িয়ে এমনভাবে কথা বলেন, যাতে মনে হয় কথা বলছে পুতুলটিই। ভেন্ট্রিলোকুইস্টদের হাতে যে পুতুলটি থাকে সেটি বেশ বড়ো। তবে তোমরা চাইলে কাগজ দিয়ে সহজেই এমন একটি ছোটো পুতুল বানিয়ে নিতে পার। যাকে বলে, ফিঙ্গার পাপেট। অর্থাৎ আঙুলের পুতুল। সেই পুতুল দিয়ে নানান মজার খেলা, গল্প তৈরি করতে পার সহজেই। কীভাবে বানাবে? চল সেটাই শিখে নিই—
কী কী লাগবে?
রঙিন কাগজ বা চার্ট পেপার
কাঁচি
আঠা
পেনসিল
স্কেচ পেন বা রং পেনসিল
ছোটো গুগলি আই (এগুলি বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। যদি না পাও, সেক্ষেত্রে এটি বাদও দিতে পার)
রঙিন উল
কীভাবে তৈরি হবে?
প্রথম ধাপ: প্রথমে যে আঙুলে পাপেটটি পরবে, তার মাপ অনুযায়ী একটি লম্বা আয়তাকার কাগজ কেটে নাও। কাগজটি আঙুলের চারপাশে একবার ঘুরিয়ে দেখে নেবে। খুব টাইট বা খুব ঢিলেঢালা যেন না হয়। নইলে কিন্তু পরে পুতুলটি নড়াচড়া করতে পারবে না। এরপর দুই প্রান্ত সামান্য ভাঁজ করে আঠা দিয়ে জুড়ে দাও। এতে
একটা ছোটো কাগজের টিউব তৈরি হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: এবার অন্য রঙের একটি কাগজে পাপেটের মুখের আকৃতি এঁকে নাও। তোমার পছন্দের যে কোনো প্রাণীর মুখ বানাতে পার। খরগোশ, বিড়াল, পাখি— তোমার যা খুশি। এমনকি মানুষের মুখও বানাতে পার। চাইলে আঁকতে পার প্রিয় কার্টুন বা চরিত্রের মুখও। আমরা ছবিতে খরগোশের মুখ এঁকেছি। এই আঁকা অংশটি কাঁচি দিয়ে সাবধানে কেটে নাও।
তৃতীয় ধাপ: কাটা মুখের উপর স্কেচ পেন দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ এঁকে নাও। চাইলে ছোটো গুগলি আই লাগিয়ে দিতে পার। চাইলে এই জায়গটা এড়িয়েও যেতে পার। রঙিন কাগজ দিয়ে চুল, কান, টুপি, গোঁফ বা অন্যান্য অংশও তৈরি করে আঠা দিয়ে লাগিয়ে নিতে পার।
এতে পাপেটটি আরও সুন্দর দেখতে লাগবে।
চতুর্থ ধাপ: মুখের অংশটি কাগজের টিউবের উপরের দিকে আঠা দিয়ে লাগিয়ে নাও। আঠা লাগানোর পর কয়েক মিনিট ধরে শুকোতে দাও। শুকিয়ে গেলেই দেখবে পাবে তোমার পাপেট প্রায় তৈরি।
পঞ্চম ধাপ: এবার পাপেটের পোশাক তৈরি করে নাও। ছোটো ছোটো রঙিন কাগজ কেটে জামা, শাড়ি, প্যান্ট, টুপি বা অন্য পোশাক তৈরি করতে পার। চাইলে উল দিয়ে চুলও বানিয়ে নিতে পারবে।
ষষ্ঠ ধাপ: পাপেট তৈরি হয়ে গেলে এবার আঙুলে পরিয়ে
গল্প বলা বা ছোটো নাটক করা যায়। একসঙ্গে অনেকগুলি পাপেট তৈরি করলে ছোটো পাপেট শো করে চমকে দিতে পার বড়োদের।