Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আর্থিক প্রতারণা: বাইক শোরুমের মালিকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত আদ্রায়

আদ্রা থানা এলাকায় আর্থিক প্রতরণা মামলায় অভিযুক্তের প্রায় এক কোটি ২৫ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ

আর্থিক প্রতারণা: বাইক শোরুমের মালিকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত আদ্রায়
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: আদ্রা থানা এলাকায় আর্থিক প্রতরণা মামলায় অভিযুক্তের প্রায় এক কোটি ২৫ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। তারমধ্যে বাইকের শোরুম সহ প্রায় ১৫ ডেসিমেল জমিও রয়েছে। রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতের নির্দেশে ওই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। বিএনএস আইনের ধারা অনুযায়ী পুরুলিয়া জেলাতে এই প্রথম প্রতারক শুধু গ্রেপ্তার নয়, পরে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং পরবর্তীতে তা নিলাম করে প্রতারিতদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ। 

Advertisement

বুধবার কুমার সানি রাজ বেলগুমা পুলিশ লাইনে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, রঘুনাথপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সহ অন্যান্যরা। পুলিশ সুপার বলেন, আদ্রা থানাতে ২০২৫ সালে একটি মামলা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি লোককে ভুল বুঝিয়ে এবং ভুয়ো নথি দিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে লোন করাতেন। যে ব্যক্তির নামে লোন অনুমোদন করানো হতো সে বাইক না পেলেও তাঁর নামে ব্যাঙ্কের লোন চালু হয়ে যেত। অন্যদিকে বাইকের ভুয়ো ইঞ্জিন নাম্বার ও চেসিস নাম্বারের এর নথি দিয়ে ক্রেতাকে বাইক না দিয়েও ব্যাঙ্ক থেকে সেই টাকা শোরুমের অ্যাকাউন্টে নেওয়ার ব্যবস্থা করতো ওই শোরুম মালিক। মোট ১০২ জনের প্রতারিত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, বিএনএস আইনের নির্দিষ্ট ধারায় অর্থনৈতিক তদন্তেও জোর দেওয়া হয়েছে। সরকার বারবার বলছে আর্থিক প্রতারণা বা চিটিং মামলাতে প্রতারকের সম্পত্তি সিজ করতে হবে। এর জন্য‌ ঩সিট গঠন করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে রঘুনাথপরে একটি বাইকের শোরুম এবং ১৫ ডেসিমেল জায়গা সিজ করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার সম্পত্তি। পুলিশ সুপার আরও জানান, ওই শোরুম মালিককে ব্যাঙ্কে জানাত লোনের মাধ্যমে বাইক বিক্রি হয়েছে। ব্যাঙ্কের থেকে বাইকের টাকা শোরুম মালিক পেয়ে যেত। গ্রাহকের নামে লোনও চালু হতো। কিন্তু গ্রাহককে বাইক দেওয়া হতো না। এরকম ১০২ ঘটনা ঘটেছে। তিনি এদিন আরও বলেন, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অস্থায়ী কর্মীও ওই প্রতারণায় যুক্ত ছিল। তাকে পুলিশ আগেই গ্রেপ্তার করেছে। এই ১০২ জনকে প্রতারিত করে শোরুম মালিক নিজের শোরুম তৈরির নিজস্ব লোন জমা দেওয়া এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করেছে। গতকাল ওই সম্পত্তি বা‌঩জেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আদালতকে অনুরোধ করব যাতে ওই সম্পত্তি নিলাম করে প্রতারিতদের যতটা সম্ভব আইন অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া যায়। এছাড়াও ঝালদা এবং বরাবাজার থানাতে মাদক মামলাতে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে খুব তাড়াতাড়ি। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই শোরুম মালিক মহারাষ্ট্রে সচল রয়েছে এমন কিছু বাইকের নথিও ব্যাঙ্কে ব্যবহার করেছিল। মূলত ভুয়ো নথি দিয়ে ক্রেতার লোন অনুমোদন করিয়ে তারপর নিজে বাইকের টাকা আত্মসাৎ করেছে অভিযুক্ত অভিষেক। সেই সঙ্গে বাইক না পেয়েও লোনের বোঝা বইতে হয়েছে শতাধিক সাধারণ মানুষকে। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকেও ওই ব্যক্তির নামে আগেই অভিযোগ করা হয়। ব্যাঙ্কের থেকেই প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার বেশি এভাবে হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ