Bartaman Logo
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুঃস্থদের আর্থিক সহায়তা, স্কুলে তহবিল বাক্স বসাল দাসপুরের সোনাখালি বালিকা বিদ্যালয়

পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও সহমর্মিতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য নজির গড়ল দাসপুর-২ ব্লকের সোনাখালি বালিকা বিদ্যালয়।

দুঃস্থদের আর্থিক সহায়তা, স্কুলে তহবিল বাক্স বসাল দাসপুরের সোনাখালি বালিকা বিদ্যালয়
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও সহমর্মিতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য নজির গড়ল  দাসপুর-২ ব্লকের সোনাখালি বালিকা বিদ্যালয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে ছাত্রীদের মধ্যে পরোপকার ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ে বসানো হয়েছে একটি বিশেষ তহবিল বাক্স, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভালোবাসার ছোঁয়া’।

Advertisement

বর্তমান সমাজে যখন স্বার্থপরতা ও সংকীর্ণ মানসিকতা গ্রাস করছে, তখন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকেই নতুন প্রজন্মকে উদার ও সংবেদনশীল করে তোলার এই অভিনব ভাবনা। বিদ্যালয়ের টিআইসি সুতপা পাল বলেন, শনিবার বিদ্যাসাগরের জন্মদিনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাক্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি ছাত্রীরা যেন ছোটবেলা থেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতা, দান-ধ্যান এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা অর্জন করতে পারে। সেই ভাবনা থেকেই স্কুলের এই উদ্যোগ। বিদ্যালয়ের বারান্দা সংলগ্ন সুরক্ষিত জায়গায়, সিসিটিভি নজরদারির আওতায় বাক্সটি রাখা হচ্ছে। যেখানে যেকোনো ছাত্রী তার সাধ্যমতো নিজের ইচ্ছায় অর্থ সঞ্চয় করতে পারবে। বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষিকা শিল্পা দাস জানান, ওইদিন ওই বাক্সটি চালু করার পরই ছাত্রীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ চোখে পড়ে আমাদের। ছাত্রীরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই অনেকেই ওই দিন হাত খরচের টাকা থেকে ওই বাক্সে টাকা দান করেছে। আমাদের শিক্ষিকারাও এদিন ওই বাক্সে সাধ্যমতো টাকা দান করেছেন। এই সংগৃহীত অর্থ দিয়ে প্রতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর কিংবা শিক্ষাবর্ষের শেষে বিদ্যালয়েরই কোনো দুঃস্থ ছাত্রীর পড়াশোনার খরচ চালানো হবে। আর বিদ্যালয়ে যদি এমন কোনো অভাবী ছাত্রী না থাকে, তবে ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়েই সরাসরি অনাথ আশ্রমে গিয়ে সেই অর্থ দান করা হবে।
উৎসাহী ছাত্রীরা বলে, প্রত্যেক দিন নয়, অবাঞ্ছিত হাত খরচ কমিয়ে আমরা মাসেও যদি ১০-২০ টাকা করে ওই বাক্সে দিতে পারি তাহলে আমাদের মধ্যে সুচেতনা তৈরি হবে। কোনো অসহায় দিদি বা বোনেদের আগামী দিনের পথে এগিয়ে যেতে হয়তো সহযোগিতা করবে।
বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ২৭৯ জন ছাত্রী রয়েছে। ছোট্ট বয়স থেকেই খুদে পড়ুয়াদের হৃদয়ে পরোপকারের বীজ বপন করার এই মানবিক উদ্যোগকে শিক্ষক মহল এবং অভিভাবকরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। ‘ভালোবাসার ছোঁয়া’র মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই মানসিকতা আগামী দিনে সমাজকে আরও সুন্দর করে তুলবে বলেই বিশ্বাস স্কুল কর্তৃপক্ষের।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ