গ্রেপ্তারির আশঙ্কা! তবুও পিছু হটতে নারাজ অভিজিৎ দীপকে, কড়া নিরাপত্তা দিল্লিতে
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৫
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি, ১৬ অক্টোবর: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে উত্তাল দেশ। পাশাপাশি জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার কবলে দিল্লি। আর সেই কর্মসূচির জেরে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দাবি, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর কর্মীরা তাঁর উপর নজরদারি চালাচ্ছেন এবং নম্বরপ্লেটহীন গাড়ি দিয়ে তাঁকে অনুসরণ করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লি ও মুম্বইয়ে লেহরা দো তিরঙ্গা প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে এই দাবি করেছেন তিনি। 
বুধবার গভীর রাতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দীপকে জানান জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য জেলে যেতে হলেও তিনি প্রস্তুত। তাঁর কথায় দিল্লি পুলিশ আজ রাতে বা আগামীকাল সকালে আমাকে আটক করতে পারে। কিন্তু আমরা ভয় পাব না। শান্তিপূর্ণভাবে গিয়ে তেরঙ্গা ওড়াব। এই দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য জেলে যেতে হলে তার জন্যও আমরা প্রস্তুত। পাশাপাশি সিজেপি দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গ তুলে দীপকে বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। তাঁর প্রশ্ন, এটা কি অপরাধ? আমরা তো সরকার বদলের দাবি জানাচ্ছি না। 
এসআঅআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছে সিজেপি। দলের তরফে গতকাল বিকেল ৫টায় দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সাধারণ মানুষ ও সমর্থকদের জাতীয় পতাকা হাতে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
আর এই কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দীপকের প্রশ্ন, ভবিষ্যতে যদি তাঁরা ১০০টি জায়গায় জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ডাক দেওয়া হয় তবে কি সেই সব জায়গাও বন্ধ করে দেওয়া হবে? অন্যদিকে প্রতিবাদ কর্মসূচি আটকানোর আবেদন খারিজ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। তবে জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে পুলিশের দেওয়া আশ্বাস আদালত নথিভুক্ত করা হয়েছে। এরপর গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশ সাধারণ মানুষকে ওই জমায়েতে অংশ না নেওয়ার আবেদন জানায়।
পুলিশের বক্তব্য, কনট প্লেস ও সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ কার্যকর রয়েছে। সেন্ট্রাল পার্কের উপযুক্ত স্থানে সর্বাধিক ১১ জনের একটি দলকে জাতীয় পতাকা বহন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কনট প্লেস এলাকায় প্রায় ৬০০০ দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আইন ভাঙলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন দিল্লি পুলিশের আধিকারিকরা। দিল্লির পাশাপাশি মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানেও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। দলের গ্রেপ্তার হওয়া দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার প্রতি সংহতি জানাতেই এই কর্মসূচি। আজাদ ময়দান নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল হওয়ায় মুম্বই পুলিশ সেখানে কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছে বলে এক পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। 

Advertisement