নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জার্মানির ফ্র্যাঙ্কফার্ট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান হাইজ্যাকের অভিযোগে তোলপাড়। যদিও পরে জানা যায় সেরকম কিছু হয়নি। বিমানের সব যাত্রী ও বিমানকর্মীরা নিরাপদ। যে বিমানের ল্যান্ড করার কথা ছিল দিল্লিতে, সেটাই এই আশঙ্কার কারণে জরুরি অবতরণ করে জয়পুরে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চলে। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ করা হয়েছিল পাইলট কোনো কারণে ভুল করে ওরকম বার্তা পাঠিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ জানাচ্ছে, বিমানে বোমা আছে এরকম একটি খবর উড়ানের মধ্যেই শোনা যায়। সেই কারণেই পাইলট দ্রুত জরুরি অবতরণ করিয়েছেন বিমানকে। সেই বার্তা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল মারফত এসেছিল কি না, সেটাও স্পষ্ট নয়।
বুধবার দুপুরে ফ্রাঙ্কফার্ট থেকে দিল্লিগামী বিমানের পাইলটের থেকে আমেদাবাদের এটিসি হঠাৎ বার্তা পায় ৭৫৫০। বিমানের ককপিটে পাইলট ও কো পাইলটের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া আন্তর্জাতিভাবেই স্বীকৃত একটি প্রোটোকল। কোনও এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি তথা হাইজ্যাকের কোনও সম্ভাবনা তৈরি হলে এয়ারক্র্যাফটের ট্র্যান্সপন্ডার কন্ট্রোল প্যানেলে থাকা কি প্যাড থেকে পাইলট অথবা কো পাইলট ৭৫০০ বার্তা পাঠান। অথবা সরাসরি ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কম্পিউটার থেকেও পাঠানো যায়। এই চার ডিজিটে চাপ দিলেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে থাকা রেডার সিস্টেম সঙ্গে সঙ্গে সেই মেসেজ ফ্ল্যাশ করে তাদের ডিসপ্লেতে। তৎক্ষণাৎ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল আবার সেই ৭৫০০ লিখে জানতে চায় কনফার্ম স্কোয়াকিং ৭৫০০? পাইলট ও কো পাইলটদের পক্ষ থেকে পালটা জবাব কী আসে সেজন্য অপেক্ষা করা হয়। সাধারণত হাইজ্যাক হলে পাইলট জানিয়ে দেয়, সেভেনটি ফাইভ টেকেন অ্যালাইভ। বুধবার এই পর্যন্ত আর বিষয়টি এগয়নি। তার আগেই দ্রুত আমেদাবাদ এটিসি এলাকা থেকে বেরিয়ে জয়পুরে ল্যান্ড করে ওই বিমান। এবং ততক্ষণে গোটা দেশের তাবৎ বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সেই লাল সতর্কতা চলে যায়। দিল্লিতে এনএসজি কমান্ডো বাহিনীকে তৈরি থাকতেও বলা হয়। অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড চলে যায় জয়পুর রানওয়েতে। সেই বিমানকে অন্য হ্যাঙ্গার থেকে অনেকটা দূরে প্রাইভেট বিমানগুলির রানওয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনও ছিনতাইকারী নেই জেনে ভিতরে প্রবেশ করে নিরাপত্তা বাহিনী। বম্ব স্কোয়াডও। তল্লাশি করা হয় কেবিন এবং চেক ইন লাগেজ। কিন্তু কোনও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। যদিও তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কারণ, এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।



