সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: মদ্যপ অবস্থায় মায়ের উপর অত্যাচার করতেন বাবা। সেই অত্যাচার থেকে মাকে বাঁচাতে গিয়েছিল ছেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেলের হাতেই খুন হতে হল বাবাকে। ঘটনাটি ঘটেছে সাগরের মহেন্দ্রগঞ্জ গ্রামে। মৃতের নাম মিলন মাইতি (৫৩)। এই ঘটনায় পুলিশ মিলন বাবুর বড়ো ছেলে ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গিয়েছে, মিলনবাবু প্রায় সময় মদ্যপান করে বাড়ি ফিরতেন। বাড়ি ফিরে অসুস্থ স্ত্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ। পরিবারের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। শুক্রবার দুপুরে অশান্তি চরম পর্যায়ে ওঠে। এদিন তিনি স্ত্রীর উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। মাকে মারধর করতে দেখে বাবাকে আটকাতে যায় বড়ো ছেলে। সেই সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, একটি কাঠের টুকরো দিয়ে ছেলে বাবার মাথায় ও শরীরে আঘাত করে। তখনই মিলনবাবু মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় সাগর থানার পুলিশ। মিলনবাবুর এক প্রতিবেশী সাগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ মৃতের স্ত্রী ও বড়ো ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার ধৃতদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হলে, বিচারক তিন দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। এদিকে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনা কী কারণে ঘটেছিল, তার তদন্ত শুরু করেছে।



