Bartaman Logo
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শান্তিপুরে টেংরিডাঙ্গায় ভাগীরথীর গর্ভে কৃষকের জমি, বাঁধের দাবি

শ্রীরামপুরের আঘাত কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের ভাঙ্গনের তীব্র গ্রাসে নদীরপাড়ের গ্রামীণ অর্থনীতি

শান্তিপুরে টেংরিডাঙ্গায় ভাগীরথীর গর্ভে কৃষকের জমি, বাঁধের দাবি
  • ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা রানাঘাট: শ্রীরামপুরের আঘাত কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের ভাঙ্গনের তীব্র গ্রাসে নদীরপাড়ের গ্রামীণ অর্থনীতি। নদীগর্ভে তলিয়ে গেল বিঘার পর বিঘা উর্বর কৃষি জমি।ফলন্ত ফসল আর বহু চাষির সারা জীবনের সম্বল। শান্তিপুর ব্লকের অন্তর্গত গয়েশপুর পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুরে সম্প্রতি ভাগীরথীর মারাত্মক ভাঙ্গন দেখেছে এলাকাবাসী। সেই আশঙ্কা সত্যি করে এবার ভাঙনের কবলে পড়ল ঠিক তার পার্শ্ববর্তী টেংরিডাঙা এলাকা। আশঙ্কায় একের পর এক কৃষকের জমি। চোখের সামনে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে গঙ্গাবক্ষে। শান্তিপুরের বিডিও সব্যসাচী রায় জানান, সেচ দপ্তর থেকে যাঁরা কাজ করবেন তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। যেখানে মাটি কেটে কাজ করবে সেখানে এখনো জল জমে আছে এজন্যে সেচ দপ্তরের ওখানে কাজ করতে দেরি হচ্ছে। যে জমিটা নদীতে চলে গিয়েছে সেটা তো আর ফেরত পাওয়া যাবে না। জমি যদি চলে যায় তাহলে তাঁদের আর কর দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই এই এলাকায় ভাগীরথীর ভাঙ্গন মারাত্মক আকার নিয়েছে। রাতারাতি নদীপাড়ের একের পর এক মাটির চাই ধসে পড়ে তলিয়ে যাচ্ছে নদীর তলদেশে। টেংরিডাঙ্গার একাধিক কৃষক জানান, যে জমিগুলি নদীগর্ভে চলে গেল সেখানে পাট, ধান ও নানা রকমের মৌসুমী সবজির চাষ হত। মুহূর্তের মধ্যে সেই ফসল সহ আস্ত জমিকেই গ্রাস করল ভাগীরথী। মাথা চাপড়ানো ছাড়া আর কোনো রাস্তা খোলা নেই ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের কাছে।
সর্বশান্ত কৃষকদের প্রধান ক্ষোভ কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতার বিরুদ্ধে। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, আমরা প্রতিবছর নিয়ম করে সরকারকে জমির কর, খাজনা দিয়ে আসছি। কিন্তু আজ যখন নদী আমাদের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিল, তখন প্রশাসন কোথায়? ক্ষতিগ্রস্তরা অবিলম্বে সরকারের কাছে উপযুক্ত আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
তবে শুধু সাময়িক সাহায্য বা ত্রিপল চায় না টেংরিডাঙ্গা। এলাকাবাসীর মূল দাবি, অবিলম্বে এই এলাকায় নদীরপাড় বরাবর  স্থায়ী শক্তপোক্ত বাঁধ তৈরি করতে হবে। প্রতিবছর বর্ষার মুখে ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে বালির বস্তা ফেলে যে বাঁধ বাঁধানোর কাজ হয় তা কেবলই প্রহসন এবং সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয় বলে দাবি গ্রামবাসীদের। শ্রীরামপুর ও টেংরিডাঙ্গার এই বিপর্যয়ের জেরে এখন আতঙ্কে দিন কাটছে গয়েশপুর পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের। রুটি, রুজি হারিয়ে দিশেহারা চাষিরা এখন তাকিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে। প্রশাসনকে দ্রুত স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা করে ভাঙ্গন মোকাবিলায়  নামার জন্য বলছেন বিপদগ্রস্ত চাষিরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ