সংবাদদাতা, সংবাদদাতা: হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে বাজারে ফসল আনলেও মিলছে না সঠিক দাম! সার, বীজ ও মজুরির খরচ বাড়লেও পাইকারি ও খুচরো বাজারের বিপুল দামের ফারাকে দিশাহারা চাষিরা। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের ক্ষোভ প্রশমনে ও বাজারের বাস্তব অবস্থা খতিয়ে দেখতে রঘুনাথগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তুলসীবাড়ি সবজি বাজারে সারপ্রাইজ ভিজিট করলেন জঙ্গিপুরের বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায়। রবিবার সকালে প্রশাসনিক আধিকারিক, কৃষি দপ্তর ও বাজার কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বাজারের আনাচ-কানাচ ঘুরে দেখেন।এ দিন বিধায়ককে কাছে পেয়েই নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা চাষিরা। তাঁদের অভিযোগ, সার-কীটনাশক থেকে পরিবহণ—সব খরচই আকাশছোঁয়া। অথচ আড়তে এলেই আড়তদারদের কারসাজিতে জলের দরে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। পচনশীল সামগ্রী হওয়ায় ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ারও উপায় থাকে না। অথচ এই সবজিই খুচরো বাজারে সাধারণ ক্রেতারা কিনছেন চড়া দামে। মাঝখান থেকে লাভের গুড় খাচ্ছে ফড়ে ও দালালচক্র। সরাসরি ক্রেতার কাছে ফসল বিক্রির সুযোগ তৈরি ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা। চাষিদের পাশাপাশি খুচরো ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন বিধায়ক। খতিয়ে দেখা হয় পণ্যের দরদাম ও কৃত্রিম জোগানের অভিযোগ। উপস্থিত প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশে বিধায়ক বলেন, কৃষকদের পরিশ্রমের মূল্য সুনিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। মাঠে পরিশ্রম করেও চাষি যদি ন্যায্য মূল্য না পান, তবে কৃষি অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। বাজারে দালালরাজ বন্ধ করতে এবং নজরদারি কড়া করার নির্দেশ দেন তিনি। স্থানীয় আড়তদারদের বক্তব্য, কিছু আনাজপাতি স্থানীয় কৃষকরা বিক্রি করে থাকে। তবে অধিকাংশ মাল আমাদের অন্য জেলা থেকে ক্রয় করতে হয়। আমরা চড়া দামে মাল কিনে ভাড়া ও লেবারের মজুরি বাদে কয়েক টাকা রাখলে চলে না। কৃষক হারু মণ্ডল ও কাশিম শেখ বলেন, মাঠ থেকে বাজারে মাল এনে তো ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে যা বাজার দর পাই বিক্রি করে দিতে হয়।



