Bartaman Logo
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিক্রি কম হওয়ায় হিমঘরে মজুত পোখরাজ আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা

হিমঘরে মজুত আলু নিয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, পোখরাজ(হাইব্রিড) আলুর কাটতি খুবই কম

বিক্রি কম হওয়ায় হিমঘরে মজুত পোখরাজ আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: হিমঘরে মজুত আলু নিয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, পোখরাজ(হাইব্রিড) আলুর কাটতি খুবই কম। তূলনায় জ্যোতি আলু সস্তায় মেলায় বাজারে জ্যোতির চাহিদা বেড়েছে। এখনও পর্যন্ত মুর্শিদাবাদে  হিমঘরগুলিতে ৫৪ শতাংশ আলু মজুত রয়েছে। অন্যান্য বছরের তূলনায় যা প্রায় ৮-৯ শতাংশ বেশী। ব্যবসায়ীদের দাবি, উত্তরপ্রদেশ থেকে সস্তায় আলু ঝাড়খন্ড, বিহারে ঢোকায় বাংলার আলু ওই দুই রাজ্যে বিকোচ্ছে না। যার ফলে হিমঘরজাত আলুর কাটতি কম। আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক আশিস ঘোষ বলেন, এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে এবার প্রচুর আলু ফেলে দিতে হবে। রাজ্য সরকার আমাদের কাছে ইতিমধ্যে মজুত আলুর হিসাব চেয়েছে। কেন আলু বিক্রি হচ্ছে না তারও কারণ জানতে চেয়েছে। আমরা আপাতত সরকারের দিকেই তাকিয়ে রয়েছি। পাশাপাশি চাষি ও আলু ব্যবসায়ী সংগঠনের অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতেও জেলার বেশ কয়েকটি স্টোর মালিক রাজ্যের বেঁধে দেওয়া ভাড়া অপেক্ষা প্যাকেট প্রতি ২-৮ টাকা হারে বেশি নিচ্ছে। ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে, মার্কেটিং বিভাগ, স্থানীয় বিডিও ও বিধায়ককে চিঠি দিয়ে পদক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় আটটি হিমঘর রয়েছে। এরমধ্যে কান্দি মহকুমায় রয়েছে পাঁচটি। বেলডাঙা, বহরমপুর ও ডোমকলে একটি করে রয়েছে। গত বছর আলুর প্রচুর উৎপাদন হওয়ায় হিমঘরগুলি ওভারলোড হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাস শেষ হতে গেলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৪৬ শতাংশ আলু খালি হয়েছে। এদিকে অক্টোবর মাস থেকে মুর্শিদাবাদে আলু চাষ শুরু হয়ে যাবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকেই নতুন আলু বাজারে আসতে শুরু করবে। ফলে এবার হিমঘরের মজুত আলু ফেলে দিতে হবে বলেই চাষি ও ব্যবসায়ীদের মনে আশঙ্কার দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এখন ১৮০ টাকা প্যাকেট(৫০ কেজি) রেডি পোখরাজ আলু বিক্রি হচ্ছে। রেডি জ্যোতি আলুর প্যাকেট প্রতি দাম ২৮০ টাকা। কম দামে জ্যোতি আলু মেলায় পোখরাজের দিকে খরিদ্দার ঘুরেও তাকাচ্ছে না। বাজারে এসে ঝোলায় জ্যোতি ভরে নিয়ে যাচ্ছেন। পোখরাজের কাটতির এটাও অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাভাবিকভাবে জ্যোতি আলু বিক্রি হলেও পোখরাজ আলুর চাহিদাই নেই। আলু ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি নিশার আহম্মেদ বলেন, আলু নিয়ে এবার শুধু ব্যবসায়ীরা নয় চাষিরাও ঘোর সঙ্কটে পড়েছে। কারণ গত বছর উচ্চ ফলন হওয়ায় চাষিরা সব আলু বিক্রি করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তাঁরা হিমঘরে রেখেছিলেন। হিসাব অনুয়ায়ী হিমঘরে ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা চাষিদের খাতায় বেশি আলু মজুত রয়েছে। আলু চাষি শঙ্কর মণ্ডল বলেন, আলু পাকিয়ে তুলে বিক্রি করতে পারিনি। সাতশো প্যাকেট আলু হিমঘরে রাখতে হয়েছিল। এখন বিক্রিই করতে পারছি না। শেষ পর্যন্ত কী হবে জানিনা। এদিকে সরকার নির্ধারিত স্টোর ভাড়া অপেক্ষা হিমঘর মালিকরা অন্যায্যভাবে ভাড়া বেশি নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আশিস ঘোষ বলেন, কান্দি মহকুমার স্টোর মালিকরা ২-৮ টাকা হারে বেশি ভাড়া নিচ্ছে। বেলডাঙা, বহরমপুর, ডোমকলে ন্যায্য ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আমরা মার্কেটিং বিভাগ সহ আরও তিন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছি কিন্তু সদুত্তর মেলেনি।

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ