Bartaman Logo
৮ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বিদায় মেসি, অবসরে ফুটবল আবেগ

আর কোনো দিন আর্জেন্তিনার জার্সি পরে মাঠে নামবেন না তিনি। মুঠো মুঠো আবেগের বিস্ফোরণ বন্দি থাকবে মনের সিন্দুকে।

বিদায় মেসি, অবসরে ফুটবল আবেগ
  • ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমনাথ বসু, কলকাতা: আর কোনো দিন আর্জেন্তিনার জার্সি পরে মাঠে নামবেন না তিনি। মুঠো মুঠো আবেগের বিস্ফোরণ বন্দি থাকবে মনের সিন্দুকে। তাই লিও মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখার জন্য কার্পণ্য করেনি এস্তাদিও মনুমেন্টাল। শুধু বুয়েনস আইরেসের এই স্টেডিয়াম নয়, গোটা বিশ্বে মেসি অনুরাগীদের হৃদয়ের রং শুধুই নীল-সাদা। এনজো ফার্নান্ডেজ, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, কোচ লায়োনেল স্কালোনির চোখের জলে আবেগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বাঁ পায়ের জাদুকরও। শিশুর মতো তিনিও ফোঁপালেন, তারপর? কান্না ঢাকার প্রাণপণ চেষ্টা। মাঠে মেসি, গ্যালারিতে তাঁরই জার্সি গায়ে চাপানো অনুরাগীরা, টিভি এবং মুঠোফোনের পর্দায় তাকিয়ে দূরদ্বীপবাসীদের মিলিয়ে দিল এই চোখের জল। 

Advertisement

অবসরের সিদ্ধান্ত আগেই ঘোষণা করেছিলেন। তবে মহাতারকার নিঃশব্দ বিদায় মেনে নিতে পারেনি এএফএ। তাই বেনিনের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচের আয়োজন। আর্জেন্তাইন সময়ে মঙ্গলবার রাতে বুয়েনস আইরেসের সব পথেই আছড়ে পড়ল জনস্রোত। মন খারাপের বিকেল থেকেই সবার গন্তব্য এস্তাদিও মনুমেন্টাল। টিকিট না থাকলেও শেষ ম্যাচে মেসির কাছাকাছি থাকতে পারার জন্য প্রবল আকুতি ভক্তদের মধ্যে। এই আবেগ মেসির জন্যই। কে ভেবেছিল, রোজারিওর বিস্ময় বালক একদিন বিশ্ব ফুটবলের মহীরুহ হয়ে উঠবে? দশকের পর দশক অনুরাগীদের ফুটবল নেশায় মাতিয়ে রাখার অপর নামই যে এলএমটেন। 
শুধু বুয়েনস আইরেস নয়, মেসির জন্য মন খারাপ আপামর অনুরাগীদের। তাঁর অবসরের শূন্যতা পূর্ণ করা আগামীর সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। লামিনে ইয়ামাল, রড্রি, হালান্ডরা রয়েছেন। প্রত্যেকেই গুড, কিন্তু গ্রেট নন। এখনও গ্রামবাংলার কোনো কিশোর বৃষ্টিভেজা মাঠে ফুটবল খেলে দেরি করে বাড়ি ফিরলে তার বাবাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি কি মেসি হবে? পড়াশোনায় মন দাও।’ পেলে ও মারাদোনার পর এই বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি আর কেউ পাননি। হয়তো পাবেনও না। 
উলটোদিকে বেনিন। ফুটবল মানচিত্রে অপরিচিত দেশ। তা সত্ত্বেও জীবনের শেষ ম্যাচে সিরিয়াস মেসি। গোল করলেন। করালেনও। গ্যালারি থেকে প্রতিটি মুহূর্তে মাঠে আছড়ে পড়েছে তাঁর জয়ধ্বনি। ম্যাচের দশ মিনিটে হঠাৎই লম্বা বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামালেন রেফারি। কী হল? মেসিও কিছুটা অবাক। গোটা গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানাতে ব্যস্ত। নম্বর টেন, তাই ১০ মিনিট। বেনিনের ফুটবলাররা তাঁর স্পর্শ পেতে ব্যাকুল। আবেগের স্রোতে ভেসে একই অবস্থা ভোরে উঠে খেলা দেখা বাঙালির। চোখের কোণে অজান্তে জলের ফোঁটা। এর নামই ফুটবল আবেগ। এদিনের পর যার ঠিকানা অবসর। 
বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জিতল আর্জেন্তিনা। ওটামেন্ডি ও নিকো পাজের গোলে মেসির ছোঁয়া ছিল। আর পেনাল্টি থেকে জাল কাঁপিয়ে দু’হাত তুলে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানালেন লিও। ম্যাচ শেষে রেফারিও পকেট থেকে হলুদ ও লাল কার্ড উপহার দিলেন তাঁকে। তারপরই ড্রোন শো। স্টেডিয়ামের আকাশে বিশ্বকাপ হাতে লিওর ছবি, ১০ নম্বর জার্সির পর ফুটে উঠল দু’টি শব্দ— গ্রেসিয়াস লিও। শেষ বার্তায় আবেগপ্রবণ মেসিও। গ্যালারিতে বসে কাঁদছেন তাঁর মা, স্ত্রী আন্তোনেলা, সন্তানরা। মাইক্রোফোন হাতে নেওয়ার পর গোটা স্টেডিয়ানে পিন ড্রপ সাইলেন্স। ভাঙা গলায় মহাতারকা বলে উঠলেন, ‘জীবনে এত কথা কোনোদিন বলিনি। আজ বলছি। কারণ, মাঠ ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। মনের ভিতর অনেক আবেগ মিলেমিশে একাকার। বাবার কথা খুব মনে পড়ছে। এই জার্সি, কোচ ও সহ-ফুটবলার, সমর্থকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। শেষ বিশ্বকাপও জিততে চেয়েছিলাম। পারিনি। সব্বাইকে মিস করব।’ 
হাত নাড়িয়ে ড্রেসিং-রুমের পথে হাঁটা শুরু মেসির। যুগাবসান...।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ