Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নকল গর্ভধারণ! ন’মাসে পর্দাফাঁস, চম্পট বধূ, মেমারিতে শোরগোল

নকল গর্ভধারণ! ন’মাসে পর্দাফাঁস, চম্পট বধূ, মেমারিতে শোরগোল
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিয়ের পর ন’বছর কেটে গিয়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাইছিলেন এবার বউমার কোল আলো করে সন্তান আসুক। তাঁর বয়সি সকলেই পুত্র বা কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শ্বশুরবাড়ির মন জয় করতে নকল গর্ভধারণ করেন মেমারির বধূ। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেয়ে তিনি স্বাস্থ্যে পরিবর্তন আনেন। চিকিৎসককে দেখানোর নামে গ্রাম থেকে বর্ধমানে প্রায়ই আসতে থাকেন। স্বামী বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। সেভাবে ছুটি পান না। তাই ওই বধূ‌ একাই বর্ধমানে আসতেন। কখনও সখনও আবার পরিবারের লোকজনকে তিনি জানান ভিডিও কলে চিকিৎসক দেখেছেন। সব কিছু ঠিক চলছিল। ‘সন্তানসম্ভবা’ বউমার জন্য বিভিন্ন ধরনের খাবার আসতে থাকে। তিনি যা চাইতেন সেটাই তাঁর পাতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। কিন্তু বিপত্তি ঘটল ন’মাস পর। কবে সিজার হবে, তা শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানতে চান। তিনি জানিয়ে দেন, ১৩ মার্চ আরও একবার ডাক্তার দেখানোর পর সিজারের তারিখ জানানো হবে। প্রসবের সময় এগিয়ে আসছিল। তাই স্বামী আর ঝুঁকি নেননি। জানিয়ে দেন, ১৩ মার্চ তিনিও স্ত্রীর সঙ্গে ডাক্তার দেখাতে যাবেন।

Advertisement

মেমারি-২ ব্লক থেকে বাসে চড়ে তিনি নবাবহাটে আসেন। বাসস্ট্যান্ডে নামার পর বধূ স্বামীকে বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করো। আমার ফোনটা তোমার কাছেই রাখো। বাথরুম করে ফিরে আসছি।’ সরল বিশ্বাসে স্বামী সেখানে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু স্ত্রী আর ফেরেননি। ওই যুবক বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম, দেরি হলেও ও ফিরে আসবে। কিন্তু প্রায় আধ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর চিন্তা বাড়ে। বাথরুমের কাছে গিয়ে দেখি, স্ত্রী নেই। সঙ্গে সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানাই। পরে নবাবহাট চত্বরে একটি সিসি ক্যামেরায় দেখি, স্ত্রী বাথরুমে না গিয়ে সোজা বেরিয়ে যাচ্ছে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি শুরু হয়। মোবাইল না নিয়ে যাওয়ায় পুলিসও তার অবস্থান জানতে পারছিল না। ওই বধূর বাবা বলেন, আমরাও বিভিন্ন জায়গায় মেয়ের খোঁজ করি। আত্মীয়ের বাড়িতেও গিয়েছিলাম। কোথাও ওকে পাওয়া যায়নি। 
পরিবারের সদস্যরা বলেন, ওই বধূ দু’দিন আগে  হঠাৎ করেই এক ব্যক্তির মোবাইল থেকে ফোন করে তিনি হাওড়ায় রয়েছেন বলে জানান। সেখানেও খোঁজাখুঁজি করা হয়। কিন্তু পাওয়া যায়নি। পরিবারের এক আত্মীয় বলেন, রবিবার রাতে জানা যায়, তিনি নদীয়ার একটি আশ্রমে রয়েছেন। পুরো বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই তিনি ‘লজ্জা’য় সেখানে চলে যান। 
বধূর শ্বশুর বলেন, বউমা খুব ভাল। ওকে সন্তানের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল, তেমনটা নয়। অবশ্য সন্তান না আসার জন্য ওর মধ্যে একটা অনুতাপ ছিল। ওর নিজেরও খারাপ লাগত। সেকারণেই হয়তো এটা করেছে। তবে নকল গর্ভধারণ না করলেই পারত। অনেকে বলছেন, এধরনের বিষয় নিয়ে হলিউডে সিনেমা তৈরি হয়। সেই চিত্রনাট্যই যেন মেমারিতে বাস্তবে রূপ পেল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ