


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের ভুয়ো খবরের জেরে হয়রান হতে হল কলকাতার এক ব্যবসায়ীকে। কয়েকমাস হল বাংলাদেশিদের কলকাতা ভ্রমণ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম ছেয়ে গিয়েছে এই খবরে। এমন ‘ভাইরাল’ খবরের বক্তব্য, বাংলাদেশি পর্যটকদের আসা-যাওয়া কমে যাওয়ায় নাকি এক পরিবহণ ব্যবসায়ী তাঁর দোকানে জামাকাপড় বেচতে শুরু করেছেন। একথা ঠিকই যে, মার্কুইস স্ট্রিটের একটি পরিবহণ সংস্থার দোকানে এখন জামা-কাপড় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আসল সত্যটা একটু আলাদা।
বর্তমানে জামা-কাপড় ব্যবসায়ী মহম্মদ ফায়জান বলছিলেন, আসলে যিনি ওই ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা করছিলেন, তিনি মাস দেড়েক আগে দোকান বন্ধ করে সৌদি আরবে চলে গিয়েছেন। আমি তারপর ওই দোকানে জামা-কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেছি। আমার সঙ্গে ওই ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, আগের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার ব্যানারটা দোকানে কিছুদিন ছিল। পরে অবশ্য খুলে দিয়েছি। আর এনিয়েই আমার হয়রান চলছে। বাংলাদেশ মিডিয়ার ভুয়ো খবরের ছবি এনে আমাকে দেখাচ্ছে নানাজনে। অনাবশ্যক নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাকে। এসব ঠিক নয়।
অর্থাত্ ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী কিন্তু জামা-কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেননি। রবিবার দেখা গেল, ওই দোকানের উপর থেকে পূর্বতন দোকানের নাম সরানো হয়েছে। তবে পাশে এখনও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার নাম লেখা রয়েছে। তবে আর এক ট্রান্সপোর্টের ব্যবসায়ী আতিফ বলছিলেন, এখন শুধুই মেডিক্যাল ভিসা দিচ্ছে। তাই কোনও বাংলাদেশি ঘুরতে আসছেন না। বাংলাদেশে বাসও খুব কম যাচ্ছে এখন। তাহলে কীভাবে চলছে তাঁদের? এক ব্যবসায়ী বলছিলেন, এখন আমরা সমস্ত দোকান মিলিয়ে আগে একটা বাস ভর্তি করি। তারপর আরও যাত্রী এলে তবে অন্য বাস চালানো হয়। কিন্তু এভাবে কতদিন চলবে? আর এক ব্যবসায়ী বলছিলেন, এখানে দোকানের ভাড়া মোটামুটি এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা। সাতমাস ধরেই ব্যবসায় এরকম ওঠানামা চলছে। মালিক আর কতদিন নিজের পকেট থেকে পয়সা দেবেন, জানি না!
মার্কুইস স্ট্রিট, নিউ মার্কেট চত্বরে শুধু যে পরিবহণ ব্যবসায়ীরাই ধুঁকছেন এমনটা নয়—হোটেল, রেস্তরাঁ, ছোট দোকান, সব ক্ষেত্রেই ব্যবসায় মন্দা চলছে। এক জামা-কাপড়ের দোকানি বলেন, বাংলাদেশিরা আসছেন না ঠিকই। তবে শ্বেতাঙ্গদের আনোগোনা কিন্তু কমেনি। তাই ব্যবসা খুব খারাপ চলছে, এমনটাও নয়।