


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভিন রাজ্য থেকে জাল ওষুধ ঢুকছে বাংলায়। অতিরিক্ত লাভের আশায় সেই ওষুধ মজুত করে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এই নিয়ে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করল বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের রামপুরহাট জোন। সেই সঙ্গে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল থেকে পাঠানো কোম্পানির নাম ও ব্যাচ নম্বরের ৭৮ রকমের ওষুধ কারও কাছে মজুত থাকলে তা অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ জাল ওষুধ বিক্রি করলে নিজেকেই ভুগতে হবে। প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে অ্যাসোসিয়েশন পাশে থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জোনের সম্পাদক সুদীপ মুখোপাধ্যায়।
রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল হওয়ায় কয়েকশো ওষুধের দোকান গজিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় সারি দিয়ে ওষুধের দোকান। এছাড়া শহরের ভিতরেও প্রচুর ওষুধের দোকান রয়েছে। কিন্তু দোকানগুলিতে দামের উপর ছাড়ের প্রতিযোগিতা চলে। জানা গিয়েছে, রামপুরহাট জোনের অধীনে ৪০০ সদস্য রয়েছেন। তার মধ্যে ২৫০ জন খুচরো ওষুধ বিক্রি করেন। সুদীপবাবু বলেন, নামী কোম্পানির ওষুধ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১৬ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ মার্জিন থাকে। কিন্তু অনেক দোকানে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। এজন্যই আমাদের সন্দেহ জাগছে। আমরাও জানতে চাই কী করে এই ছাড় দিচ্ছেন। কেউ তো আর নিজের জমানো টাকা থেকে দেবেন না। দোকান চালানোর খরচও রয়েছে। তিনি বলেন, সবাই তো সৎপথে থাকেন না। নিজের রুটিরুজির জন্য অনেকে বাধ্য হয়ে জাল ওষুধ বিক্রি করছেন। ভিন রাজ্যে দামি কোম্পানির কিউবার কোড নকল করে জাল ওষুধ প্যাকিং করা হচ্ছে। পরে সেখান থেকে জাল ওষুধ ঢুকছে বাংলায়। দিন কয়েক আগে হাওড়ার আমতায় ধরা পড়া জাল ওষুধ এসেছিল বিহার থেকে।
অনেকে মনে করছেন, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গিয়েই ওষুধের উপরে ছাড় দিচ্ছেন বহু ব্যবসায়ী। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জাল ওষুধের রমরমা বাড়ছে। দামি কোম্পানির কিউবার কোড জাল করে ভেজাল ওষুধ তৈরি হচ্ছে কয়েকটি ভিন রাজ্যে। সাধারণ মানুষের কাছে জাল ওষুধ চেনা সম্ভব নয়। তাতেই এসব ওষুধ সেবন করে রোগীরা আক্রান্ত হচ্ছেন জটিল ও কঠিন রোগে। এক ওষুধের দোকানদার বলেন, সাধারণত বিল নিয়েই ওষুধ কেনা হয়। কিন্তু অনেকে ব্যাগে ভরে ওষুধ নিয়ে আসেন। বেশি টাকার মার্জিনের টোপ দেওয়া হয়। মুনাফার আশায় অনেকে বিল ছাড়াই ওষুধ কিনে বিক্রি করেন। সেগুলিই জাল। চিকিৎসক যা লেখেন, অনেকে সেই ওষুধ দেন না। রোগীরাও বিশ্বাস করে সেই ওষুধ কিনছেন।
বিষয়টি সামনে আসতেই গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। বলা হয়েছে, পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ব্যাচের ওষুধের তালিকা ও তথ্য সমস্ত সরকারি হাসপাতাল, সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোর, পাইকারি বিক্রেতা এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের নির্দেশিকা দিয়ে জানাতে হবে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলকে। দেখতে হবে যাতে কোথাও ওইসব ওষুধ ব্যবহার না হয়। রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের নাম ও ব্যাচ নম্বরের তালিকা পাঠিয়ে বিক্রি না করার নির্দেশ দিয়েছে। সেই মতো বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের রামপুরহাট জোনের পক্ষ থেকে সমস্ত পাইকারি ও খুচরো ওষুধ বিক্রেতাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও ওই ব্যাচ নম্বরের ওষুধ মজুত থাকলে তা ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অতিরিক্ত মার্জিনের লোভে যেন বিপদে না পড়েন। নিজে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে সঠিক জায়গায় বিল সহ ওষুধ কিনুন। সুদীপবাবু বলেন, চিকিৎসক যা ওষুধ লিখেছেন, ক্রেতারা যেন সেটাই কেনেন। সেই সঙ্গে জিএসটি বিল অবশ্যই সংগ্রহ করুন।