


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চলতি আর্থিক বছরের শেষে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য ১ লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছবে। এমনই আশা ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত বছরের তুলনায় চলতি আর্থিক বছরের শেষে মোট রপ্তানি বাণিজ্য ২১ শতাংশ বেশি হতে চলেছে। এই পূর্বাভাস সত্যি হলে সেটি হবে, অর্থনীতির পক্ষে চমকপ্রদ ইতিবাচক সংবাদ। প্রথমত, সেক্ষেত্রে এটি হবে সর্বকালীন রেকর্ড। দ্বিতীয়ত বিগত আর্থিক বছরে রপ্তানি পূর্ববর্তী আর্থিক বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কমে গিয়েছিল। সেই জায়গা থেকে রপ্তানি এতটা ঘুরে দাঁড়াবে।
সবথেকে বেশি যে সেক্টরে রপ্তানি বৃদ্ধি পেতে পারে তা হল, ইলেকট্রনিক্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল, টেক্সটাইল, ওষুধ এবং কৃষি। কৃষি রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরে কমেছে ভারতের। অবশেষে যদি এই কৃষি রপ্তানি বৃদ্ধি পায় তাহলে সেটি হবে সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ ভারতের জন্য প্রয়োজনীয়। ইলেকট্রনিক্স রপ্তানি ৬ হাজার কোটি ডলার স্পর্শ করতে পারে। যা ছিল ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একের পর এক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি হতে চলেছে ভারতের। সেটি যেমন বিশেষ মুনাফাজনক হতে চলেছে। আভাস পাওয়া যাচ্ছে আমেরিকার আমদানি শুল্ক নিয়ে অতিরিক্ত সক্রিয়তা এবং তারপর অনিশ্চয়তার কারণে এশিয়া, ইওরোপ, আফ্রিকার মধ্যে নতুন করে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের একটি দরজা ও সম্ভাবনা খুলে যাচ্ছে। গহনা শিল্প অনেকদিন ধরেই রপ্তানিতে ধাক্কা খাচ্ছিল। এবার নতুন করে গহনা শিল্প আশার আলো দেখছে। যেভাবে প্রথম দু’মাসে রপ্তানি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে সেই প্রবণতা বজায় থাকলে ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের গহনা রপ্তানি হবে। সম্প্রতি শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রক দেশের রপ্তানি সংস্থা ও সংগঠনকে জানিয়েছে ইউরোপে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ সরকারি সহায়তা করা হবে। যে বিধিনিষেধ ছিল, সেগুলি অনেকটাই শিথিল হবে। ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট পরিষেবাও সুবিধাজনক করা হবে।