সংবাদদাতা, কাটোয়া: করোনার সময় রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্যে বড়সড় দুর্নীতির খোঁজ পেয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। সব জেলার সিএমওএইচকে এফআইআর এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় অনুদানের টাকায় তৈরি কোটি কোটি টাকার চিকিৎসার সরঞ্জাম সব লোপাট হয়েছে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের জমিতে দশ কোটি টাকা খরচ করে কোভিড আইসোলেশন ভবন তৈরি হয়েছিল। ১০০ শয্যার ওই ভবনের দামি বেডগুলি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
কেন্দ্রের কোভিড তহবিলের টাকায় কেনা দামি যন্ত্রাংশও বিকল হয়ে রয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন ডাঁই হয়ে রয়েছে। পিপি কিট থেকে মাস্ক সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শুধু ব্যবহারের অভাবে। যেখানে রোগীরা বেড পাচ্ছেন না, সেখানে দামি বেড ব্যবহারের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে৷ কার গাফিলতিতে কোটি টাকা খরচ করে কেনা যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। সরকারি টাকার অপচয় কেন ঘটল তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা৷
পূর্ব বর্ধমান জেলার সিএমওএইচ জয়রাম হেমব্রম বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে রিপোর্ট চেয়েছে। আমরা রিপোর্ট দেব। তবে কাটোয়া হাসপাতালে ওই ভবনটার গ্রাউন্ড ফ্লোর আমরা চালু করতে পেরেছি। কেন্দ্রের টাকায় কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ২০২৪ সালে অতিরিক্ত ১০০ শয্যার ভবন গড়ে উঠেছিল। সেখানে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। কি নেই সেখানে। পাইপলাইনের মাধ্যেমে অক্সিজেন সাপ্লাই করারও ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন ভবনের চারতলায় ১৮টি বেডের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট রয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিভাগ ওই নতুন ভবনে চালু করার কথা। এখনও তা চালু হয়নি। দামি ভেন্টিলেশন মেশিন দেওয়া হয়েছিল কোভিড হাসপাতালে৷ তা পড়ে নষ্ট হচ্ছিল। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই মেশিনগুলো এখন কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের এইচডিইউ বিভাগে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালের ভাঙাচোরা সামগ্রী রাখা গোডাউনে পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে বস্তা বস্তা কোভিড সরঞ্জাম। হাসপাতালের দাবি, নতুন ভবনে পরিষেবা চালু করতে গেলে পর্যাপ্ত কর্মীর প্রয়োজন ছিল। সেটা না থাকায় চালু করা যায়নি। তাতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এমনিতেই কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের উপর পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জেলার একাংশ নির্ভরশীল। ধীরে ধীরে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নত হচ্ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগীর চাপ। চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আনা হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। সেইসঙ্গে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার জন্য ভিন জেলার অনেকেই কাটোয়া হাসপাতালে ভিড় জমান। আগেই হাসপাতালে মুর্মুষ রোগীদের জন্য তৈরি হয়েছে এইচডিইউ বিভাগ। হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধির জন্য বেড পাওয়া যায় না।রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য জুড়ে ৬৪টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে উধাও কোটি কোটি কোভিড চিকিৎসা সরঞ্জাম। সরকারি হাসপাতালের জন্য কেনা সরঞ্জাম লোপাট করে দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশন দেশে স্বাস্থ্য খাতে ৮৪৫৩ কোটি টাকার অনুদান বরাদ্দ করে। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ পায় ৮২৯ কোটি টাকা। এখন কোভিড হাসপাতালের বেনিয়ম নিয়ে তদন্তে কি বেরিয়ে আসে তা এখন দেখার।



