নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ছাব্বিশের নির্বাচনে বাঁকুড়ায় খাতা খুলতে পারেনি তৃণমূল। ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল। বহু নেতা-কর্মী ঘরছাড়া। অনেকেই আবার গ্রেপ্তার হয়ে জেল খাটছেন। এই পরিস্থিতিতে ফের ঘর গোছানোর কাজ শুরু করল মমতা তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা কোর কমিটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার খাতড়ার চার তৃণমূল নেতা-নেত্রীকে জেলা কোর কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী দিনে জেলার প্রতিটি ব্লক থেকে নেতা-নেত্রীদের কোর কমিটিতে নেওয়া হবে।
মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক মোহন কর বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব ১৭ জনের কোর কমিটি গঠন করেছিল। এতদিন আমরা কাজ করছিলাম। এখনো সব ব্লকে কমিটি গঠন করা হয়নি। ব্লকের নেতাদের জেলা কোর কমিটিতে জায়গা দেওয়া হবে। প্রাক্তন ব্লক সভাপতি, জেলা পরিষদ সদস্য সহ প্রথমসারির নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের আমরা কোর কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করব। সকলে মিলে আগামী দিনে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে নামব। বিজেপি সরকারের প্রতিশ্রুতিভঙ্গের সব দিক আমরা জেলাবাসীর সামনে তুলে ধরব।
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল সম্পর্কে যত কম বলা যায়, ততই ভাল। ওরা কী করবে, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। যতই চেষ্টা করুক, আর কোনোদিন তৃণমূলের কোনো শাখাপ্রশাখা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল রাজ্যবাসী পেতে শুরু করেছে। সোনার বাংলা গড়ে তোলার শপথ আমরা নিয়েছি। আগামী দিনে সব ক্ষেত্রেই আরও উন্নয়ন হবে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর পূর্বতন শাসক দলের নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। রাজনৈতিক কর্মসূচি নেওয়া দূরঅস্ত, তাঁরা নিজেদের ‘বাঁচাতে’ ব্যস্ত ছিলেন। তখন বিজেপি-র ভরা জোয়ার ছিল। তবে ডাবল ইঞ্জিন সরকার গঠিত হওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে বিজেপি-র বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছে।
প্রতিশ্রুতিমতো সব যোগ্য মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা দিতে না পারার বিষয়টি পদ্ম শিবিরের গলায় কাঁটার মতো বিঁধছে। টাকা না পেয়ে মহিলারা বিজেপি-র বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। গোদের উপর বিষ ফোড়ার মতো বেকারত্ব ইস্যুও বিজেপি সরকারকে বেগ দিচ্ছে। এই সুযোগটাই মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব কাজে লাগাতে চাইছে।