নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর মুখে রাস্তায় নেমেছিলেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কর্তারা। দোকানে দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ভেজাল খাবার বিক্রি রুখতে উদ্যোগী হয়েছিলেন তাঁরা। তালিকায় ছিল মিষ্টির দোকানও। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা ফ্যাসাইয়ের রক্তচক্ষুতে গায়ের লালচে রং হরিয়ে ফেলেছিল অমৃতি। ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিল বোঁদে থেকে কমলাভোগ। এখনও রঙিন মিষ্টিগুলি আর ততটা রঙিন নয়! কিন্তু স্বাদ? মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের কথায়, সেখানে কোনো খামতি নেই। এই পুজোতেও বাংলার চিরন্তনী মিষ্টির জমাট বাজার। ঝোঁক বেশি রসের মিষ্টিতেই।
মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন ‘মিষ্টি উদ্যোগ’-এর সভাপতি ধীমান দাশের কথায়, ‘স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছে, আমরা তাকে সর্বতোভাবে সমর্থন করেছি। কী করা উচিত আর কী নয়, তার তালিকা দিয়েছি আমরা। প্রায় সবাই তা মেনে চলেছেন। কিন্তু ফ্যাসাইয়ের পদক্ষেপে রঙিন মিষ্টির চাহিদা একদম কমে গিয়েছে।’ ধীমানবাবুর নিজের প্রতিষ্ঠান কে সি দাশে এবার থাকছে স্পেশাল মিষ্টি স্পঞ্জ মালাই রোল। চকোলেট, স্ট্রবেরিল ভ্যানিলা, কেশর ও আমের স্বাদে মিলবে এই রসের মিষ্টি। সঙ্গে থাকবে কলাপাতায় মোড়া ছানার পাতুরি, বিস্কফ সন্দেশ। এই প্রথম ভাপা সন্দেশও তৈরি করছে কে সি দাশ।
দুধের সর দিয়ে রাবড়ি তৈরিই রেওয়াজ। কিন্তু বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিকে সর দেওয়া হয় দইয়েও। সেই সর দই আরও মোলায়েম, ঘন ও সুস্বাদু— বলছিলেন এখানকার কর্ণধার সুদীপ মল্লিক। এবার লাল দই ও মিষ্টি দইয়ের সঙ্গেই থাকছে গন্ধরাজ দই। পুজোর মিষ্টির তালিকায় যোগ হয়েছে কাজু কাতলি সুফলে। যতটা দেখনদারি, ততটাই অভিনব স্বাদের। সঙ্গে থাকছে ভাপা কালাকাঁদ। এছাড়া আগমনি ও শারদীয়া সন্দেশ বহন করছে চিরন্তনী স্বাদ। নানারকম ফিউশন মিষ্টিতে সুনাম অর্জন করেছে সতীশ ময়রা। তবে পুজোর দিনগুলিতে চিরন্তনী মিষ্টিতেই আস্থা তাদের। এখানকার কর্তা অরূপকুমার দাসের কথায়, ‘১৮৪০ সালে আমাদের দোকান চালু হয়। তখন পুজোর মিষ্টি বলতে ছিল চন্দ্রপুলি, ছাপা বা টেক্কা সন্দেশ। আমরা এখনও গোলাকার সূর্যপুলি, অর্ধচন্দ্রাকার চন্দ্রপুলি ও পাঁচ টাকা দামের টেক্কা সন্দেশ করি। সঙ্গে থাকে ২ টাকার নারকেল ছাপা। ক্রেতারাও এগুলির জন্য বছরভর অপেক্ষা করে থাকেন। দশমীতে আমাদের ভিয়েন বসে, যেখান থেকে গরম গরম গজা, মিহিদানা আর নিমকি কেনেন তাঁরা। ওই একদিনে এক হাজার কেজি মিহিদানা, এক হাজার কেজি গজা আর প্রায় দেড় হাজার প্যাকেট নিমকি বিক্রি করা আমাদের বরাবরের রেওয়াজ।’
সন্দেশে সরের কারসাজি এবার দেশপ্রিয় সুইটসে। মরশুমের আগেই এখানে হাজির নলেন গুড়ের সন্দেশ ও রসগোল্লা। কর্ণধার সমীর ঘোষের কথায়, ‘আমরা নতুন ধরনের হরেক মিষ্টি তৈরি করি পুজোয়। কিন্তু জাম্বো রসগোল্লা, চন্দ্রপুলির সঙ্গে ছানার জিলিপির যে চাহিদা, তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন। তালিকায় আছে শারদীয়া সন্দেশও।’ রিষড়ার ফেলু মোদকে এবার নতুন মিষ্টি মিহিতুয়া। পান্তুয়ার পেটে মিহিদানার বাস। কর্ণধার অমিতাভ দে’র কথায়, ‘এবার আমন্ড, পেস্তা বা কাজুর হরেক সন্দেশ থাকছে ঠিকই। কিন্তু ক্রেতারা থাকতে চান রসেবশে। তাই রসের মিষ্টিই বেশি চলছে। খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে রংয়ের মিষ্টির চাহিদা কিছুটা কমেছে।’



