পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: উমাকে বরণ করতে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা শহর থেকে গ্রামে। বাদ নেই বনেদি বাড়ির পুজোগুলিও। হাওড়ার যে ক’টি প্রাচীন বনেদি বাড়ির পুজো আছে, তার মধ্যে উদয়নারায়ণপুরের গজা গঙ্গোপাধ্যায় (পুরাতন) বাড়ি অন্যতম। কান্যকুব্জ বা কনৌজের বাসিন্দা প্রিয়ঙ্করের বংশধর চন্দ্রশেখর গঙ্গোপাধ্যায় ১১০০ বঙ্গাব্দে জেলার সূদূর পশ্চিম প্রান্তের এক গ্রামে যে দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন, তার বয়স আজ ৩৩৩ বছর। সেই সময় চন্দ্রশেখরবাবু উদয়নারায়ণপুরের শিবপুর গ্রাম থেকে গজা গ্রামে এসে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। জন্মাষ্টমীর দিন ঠাকুরের কাঠামোতে মাটি দেওয়া হয়। এরপর নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে পুজোর দিনগুলিতে পুজো হয়।
পরিবারের সদস্য অমিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ষষ্ঠীর দিন মণ্ডপের পাশে বাস্তু দেবী ষষ্ঠী মনসার ঘরে দেবীর বোধন হয় এবং দেবীর হাতে সুতো বাঁধা হয়। ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত চণ্ডীপাঠ হয়। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী– এই তিনদিন ১৬ রকমের ভোগ এবং ১৬ উপাচার দিয়ে দেবীর পুজো হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেবীর আরতির পাশাপাশি প্রসাদ বিতরণ হয়। পুজোর তিনদিন চালকুমড়ো, আখ এবং আদাগাছ বলি দেওয়া হয়। দশমীর দিন পান্তা ভাত এবং কাতলা মাছের ভোগ দেওয়ার পর মাকে কৈলাসের পথে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়।
অমিতবাবু জানান, দশমীর দিন মাকে বিদায় দেওয়ার সময় ঘরের মেয়ের মত কনকাঞ্জলি দেওয়া হয়। সেই কারণে আমাদের পরিবারের মেয়েদের বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় কনকাঞ্জলি দেওয়া হয় না। দেবীর অলৌকিক এক কাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৩৪৯ বঙ্গাব্দে বিধ্বংসী ঝড়ের কারণে পুজো হওয়া নিয়ে পুরোহিত ও ঢাকির মনে সংশয় দেখা দিয়েছিল। যদিও পরে মায়ের স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর তাঁদের সংশয় কেটে যায়। ১৩৮৫ বঙ্গাব্দের বিধ্বংসী বন্যাতেও প্রতিমা শিল্পী ও মালাকারের মনে পুজো হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। সেবারও মা দু’জনকে স্বপ্নাদেশ দেন, তাতে তাঁদের সংশয়ও দূর হয়।