সংবাদদাতা, ঝালদা: স্বাধীনতার সাত দশক পেরিয়েও বিশুদ্ধ পানীয় জল আজও অধরা। পাহাড়ী ঝরনার জলের উপর ভরসা করে জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন বাঘমুণ্ডি বিধানসভার আড়ষা ব্লকের হেটগুগুই গ্রাম পঞ্চায়েতের হেটবেড়া ও চুলাপানি টোলার বাসিন্দারা। পানীয় জল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম সংকটে দিন কাটানো এই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, একটু পরিস্রুত পানীয় জল এবং একটি পাকা রাস্তা। প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবারের বসবাস এই দুর্গম পাহাড়ঘেরা এলাকায়। অথচ আজও নেই একটি নলকূপ। বাধ্য হয়েই পাহাড়ের কোল বেয়ে নেমে আসা ঝরনার জলই ভরসা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোট এলে শুধু প্রতিশ্রুতিই মেলে। কিন্তু, বাস্তবে কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। এলাকায় প্রায়ই পেটের রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবেই এই দুর্ভোগ। শুধু জল নয়, ভোগান্তির আরেক নাম যোগাযোগ ব্যবস্থা। গ্রামে ঢোকার মুখে নদীর উপর একটি কালভার্ট এবং কিছু অংশে ঢালাই রাস্তা হলেও সম্পূর্ণ রাস্তা এখনো নির্মিত হয়নি। ফলে অ্যাম্বুলেন্স বা চারচাকার গাড়ি পৌঁছাতে পারে না। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে কাঁধে বা খাটিয়ায় করে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছবি ধরা পড়েছে ৮০ বছরের বৃদ্ধা ললিতা মাঝির জীবনে। এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে জলের পাত্র এবং স্টিলের বাটি নিয়ে প্রতিদিন দুর্গম আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথ পেরিয়ে ঝরনা থেকে জল আনতে হয় তাঁকে। ললিতা মাঝি বলেন, আমাদের এখানে কোনো নলকূপ নেই। তাই আজও ঝরনার জলই ব্যবহার করি। গ্রামে এখনো গাড়ি ঢোকে না। সরকার যেন দ্রুত রাস্তা ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করে। বাঘমুণ্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাত বলেন, এলাকার বিডিওর সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব হেটবেড়া-চুলাপানিতে পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে। এখন প্রশ্ন একটাই প্রতিশ্রুতি কি বাস্তবের রূপ নেবে? নাকি পাহাড়ি ঝর্ণার জলই আগামী দিনেও হেটবেড়া-চুলাপানীর মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে থাকবে? সেই উত্তরেই তাকিয়ে গোটা এলাকা।



